প্রকৃত আসামি ধরতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর রায় প্রকাশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫১ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২২

প্রকৃত আসামি শনাক্ত করতে দেশের সব থানা ও কারাগারে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করার নির্দেশনা দিয়ে ঘোষিত রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) আইনজীবীদের সইয়ের পর এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত রিটের ওপর জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। একই সঙ্গে ওই দিন নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় করা মামলার প্রকৃত আসামি নোয়াখালীর মোদাচ্ছের আনছারীর পরিবর্তে মো. জহির উদ্দিনের গ্রেফতারি পরোয়ানা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়।

আদালতে ওইদিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, আদালত পর্যবেক্ষণসহ রুলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন। এছাড়া আবেদনকারী জহির উদ্দীনের বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা অবৈধ ও আইন-বহির্ভূত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিষয়টি পর্যবেক্ষণের পর আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো হলো-

১. বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সব থানায় আসামির হাতের আঙুল-তালুর ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যানসহ বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুকরণ।

২. গ্রেফতারের পর আসামির সম্পূর্ণ মুখের ছবি (মাগশট ফটোগ্রাফস) ধারণ ও কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষণ।

৩. দেশের সব কারাগারে আঙুল-হাতের তালুর ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যানের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালুকরণ।

শিশির মনির জানান, ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহজাদপুর গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে মোদাচ্ছের আনছারীকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার হওয়ার পর মোদাচ্ছের তার নাম-ঠিকানা গোপন করে নিজেকে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার আজগর আলী মোল্লা বাড়ি মসজিদ সড়ক এলাকার মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নামে পরিচয় দেন।

পরে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর মোদাচ্ছের জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। মোদাচ্ছের জহির উদ্দিন নামেই আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন।

এর আগে, নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় করা মামলার প্রকৃত আসামি নোয়াখালীর বসুরহাটের মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নয় মর্মে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার প্রকৃত আসামি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মোদাচ্ছের আনছারী ওরফে মোহাদ্দেস।

এতে আরও বলা হয়, জহির উদ্দিনকে খিলগাঁও থানার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামি হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি প্রকৃতপক্ষে গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামি নন, প্রকৃত আসামি মোদাচ্ছের আনছারী।

এমতাবস্থায় করণীয় বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও রিট আবেদনকারী পক্ষের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জানতে চান হাইকোর্ট। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উভয়পক্ষকে ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়। ধার্য করা দিনে ওই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হয়।

হাইকোর্টের একই বেঞ্চ গত বছরের ১০ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত করার আদেশ দেন।

এদিকে, পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল জহির উদ্দিনসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর জহিরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এমতাবস্থায় জহির উদ্দিন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মূল আসামি মোদাচ্ছের আনছারীর ছবি ও শারীরিক বর্ণনাসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে জহির উদ্দিন তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট আবেদন করেন।

এফএইচ/এসএএইচ/এমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।