মিরসরাইয়ের ট্রেন দুর্ঘটনা হাইকোর্টের নজরে, রিটের পরামর্শ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৩ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২২

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়ায় মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১১ যাত্রী নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিকে রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ চাওয়া হয়। পরে আদালত এ বিষয়ে রিট আবেদন করার পরামর্শ দেন।

রোববার (৩১ জুলাই) বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ বিষয়ে রিট আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালতের সামনে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থাপনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। তিনি নিজেই বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিন হাইকোর্টের বিরতির পর দুপুর সোয়া দুইটার দিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়ায় মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জনের নিহতের ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠন করলেও এ বিষয়ে সঠিক তদন্তের স্বার্থে কমিটি গঠনের নির্দেশনার আর্জি জানান। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কোনো প্রকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আর্জিও জানান তিনি।

এসময় আদালত বলেন, আমরা স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ দিতে পারি। কিন্তু পরে এ বিষয়ে আইনজীবীরা আর কোনো পদক্ষেপ নিতে আসেন না। ফলে আমরা কোনো আদেশ দিচ্ছি না। তবে রিট আবেদন নিয়ে এলে বিষয়টি দেখবো।

ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল সাংবাদিকদের জানান, তদন্ত কমিটি গঠন ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশের আবেদন ছাড়াও ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতেও আর্জি জানানো হয়েছে। আদালত রিট আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় শুক্রবার (২৯ জুলাই) দিনগত রাতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে ওই লেভেলক্রসিংয়ের গেটকিপার সাদ্দাম হোসেনকে একমাত্র আসামি করে রেলওয়ে পুলিশের এএসআই মো. জহির বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

রোববার (৩১ জুলাই) সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেকের দাফন-কাফন খরচ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত প্রত্যেকের চিকিৎসায় ১৫ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দিয়েছেন। সকাল থেকে ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলোর ঘরে গিয়ে সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

গত শুক্রবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার খৈয়াছড়া এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় পর্যটকবাহী মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত সাতজনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতরা সবাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হতাহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী এবং তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজারে।

ঘটনার দিনই ওই লেভেলক্রসিংয়ের গেটম্যান সাদ্দামকে বিকেল ৬টার দিকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণ জানতে চট্টগ্রাম রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মো. আনছার আলীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রেলের বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী-১ আবদুল হামিদ, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (লোকো) জাহিদ হাসান, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজানুর রহমান ও বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার (ডিএমও) মো. আনোয়ার হোসেন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দীন জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, একটি মাইক্রোবাসে ১৮ জন তরুণ-যুবক খৈয়াছড়া ঝরনা দেখে ফিরছিলেন। এসময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। হতাহতরা সবাই ‘আরএনজে কোচিং সেন্টার’ নামে একটি কোচিং সেন্টারের ছাত্র-শিক্ষক। তারা হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ট্রেন আসার সিগন্যাল পেয়ে ওই ক্রসিংয়ের গেটম্যান সাদ্দাম বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড দিয়েছিলেন। সেই বাঁশ ঠেলে মাইক্রোবাসটি রেললাইনের ওপর উঠে যায়। এমনকি গেটম্যান লাল পতাকা উড়িয়ে মাইক্রোবাসচালককে থামার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী মফিজুল হকসহ কয়েকজন ভিন্ন তথ্য জানান। তারা দাবি করেন, দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান সাদ্দাম সেখানে ছিলেন না। তিনি জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। বাঁশ ফেলে ক্রসিংয়ে ব্যারিকেড করা হয়নি বলে দাবি তাদের।

এফএইচ/জেডএইচ/এমএস/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।