জাবি উপাচার্যের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট স্ট্যান্ডওভার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০২ পিএম, ১০ আগস্ট ২০২২
ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল আলমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের বিষয়ে শুনানি আরও দুই সপ্তাহের জন্য স্ট্যান্ডওভার করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুবীরনন্দী দাস।

বুধবার (১০ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ জাবি উপাচার্যের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুবীরনন্দী দাস ও অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে। ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। আর রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন আহমেদ।

গত ২ আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট অ্যাডভোকেট শামসুজ্জোহার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন আহমেদ রিটটি দায়ের করেন।

রিটের বিষয়ে আলাউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অবসর আইন অনুযায়ী একজন শিক্ষক ৬৫ বছর বয়সে অবসরে যাবেন। অধ্যাপক নুরুল আলমের জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৫৭। সে হিসাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে তার চাকরির বয়সপূর্তি হয়েছে। এরপর তার আর পদে থাকার বৈধতা থাকে না।

তিনি আরও বলেন, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে এ ব্যাপারে লিগ্যাল নোটিশ পাঠনো হয়েছে। এরপরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ রিট করা হয়। গত ১ আগস্ট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে, অধ্যাপক নুরুল আলম ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ার ছয় মাস পর চাকরি থেকে অবসর নেন। উপাচার্য তার মেয়াদ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন কি না সে নির্দেশনা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় জাবি প্রশাসন।

চিঠিতে বলা হয়, ২৯ জুন অধ্যাপক নুরুল আলমের চাকরির বয়সপূর্তি হবে। এ অবস্থায় তার মূল পদে প্রত্যাবর্তনপূর্বক অবসর গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন শেষে উপ-উপাচার্য পদের মেয়াদের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করা এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপাচার্যের সাময়িক দায়িত্ব পালন বিষয়ে নির্দেশনা প্রয়োজন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে ৩০ জুন একটি চিঠি দেয়। যার অনুলিপি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবরও দেওয়া হয়েছে।

ওই চিঠিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অধ্যাপক ড. মো নুরুল আলমের জন্ম ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি। ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার ৬৫ বৎসর পূর্ণ হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক (অবসরগ্রহণ) (বিশেষ বিধান) আইন ২০১২ অনুসারে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ৬৫ বৎসর বয়সপূর্তিতে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিতে ২৯ জুন চাকরির বয়সপূর্তি উল্লেখ থাকার বিষয়টি এ বিভাগের বোধগম্য নয়।

অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, আরেকটি বিষয় আমরা জানতে চেয়েছি যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৭৩ এর ধারা ২০ অনুযায়ী সিনেট অধিবেশনে আহ্বান করার এখতিয়ার শুধু উপাচার্যের। কিন্তু গত ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ কর্তৃক সিনেটরদের কাছে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের নিরিখে একটি বিশেষ সিনেট অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

এফএইচ/বিএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।