‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় কারা কলকাঠি নেড়েছেন তা উদ্ঘাটন করা উচিত’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২

স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে— এ ঘটনা উদ্ঘাটন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে কলকাঠি কারা নেড়েছেন, তা উদ্ঘাটন করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বিচারপতি এএনএম বসির উল্লাহ রচিত ‘বিচারক জীবনের কথা’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা সামনে থেকে গুলি করেছেন এবং স্বীকার করেছেন আমরা খুন করেছি, শুধু কী তারাই খুনি? আমার প্রশ্ন হচ্ছে—নাকি অনেক বড় চক্র এর পেছনে কড়া নেড়েছে, যেটি এখনো উদ্ঘাটন হয়নি। উদ্ঘাটন হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমার কাছে মনে হয় বাংলা, বাংলার মাটি, বাংলার বাতাস, বাঙালি জাতিয়তাবাদ, বাংলা ভাষা, ১৯৭১ সালে জন্ম হয় বাংলাদেশের। সে জন্য বাংলাদেশের কথা বলতে গেলে, বাংলা ভাষার কথা বলতে গেলে, বাংলার মানুষের কথা বলতে গেলে বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি ১৯৭৫ সালে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে ফিরে এসে খুব গর্ব করে বলেছিলেন ‘সপ্ত কোটি সন্তানেরা.....মানুষ করোনি।’কবিগুরুর এ বাণী আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বাঙালিরা আজ মানুষ হয়েছে। বাঙালিরা কি আসলেই মানুষ হয়েছে? পঁচাত্তরের ঘটনায় কি মনে হয় বাঙালিরা মানুষ হয়েছে? কারণ বঙ্গবন্ধুকে যারা গুলি করেছে তারা বাঙালি। বঙ্গবন্ধুকে সামনে থেকে যারা গুলি করেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে আমরা খুন করেছি,। প্রশ্ন হচ্ছে, শুধুমাত্র কি তারাই বলেছেন? .নাকি অনেক বড় চক্র এর পেছনে কাজ করেছে, যেটি এখনও উদঘাটন হয়নি। কিন্তু এটির উদঘাটন হওয়া উচিত বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে কলকাঠি কারা নেড়েছেন।

মামলার নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, গত ছয় মাসে অধস্তন আদালতে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা বেড়েছে। ৩০ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত নিষ্পত্তির হার বেড়েছে। এটা অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রচণ্ড পরিশ্রমের ফল। তাদের এই পরিশ্রমের কথা সাংবাদিকেরা লিখেন না। আমরা বাহবা চাচ্ছি না। কিছুটা হলেও গতি বেড়েছে। মানুষের দুর্গতি কিছুটা হলেও কমেছে। আসুন সবাই মিলে চেষ্টা করি যাতে তাদের যত দ্রুত সম্ভব আদালতের বারান্দা থেকে বাড়ির বারান্দায় ফেরত পাঠাতে পারি।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, একটি কমিশন হওয়া উচিত। কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, দেশি-বিদেশি কারা সম্পৃক্ত ছিল। একটি কমিশনের মাধ্যমে এটি উদঘাটিত না হলে আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে না যে কী ঘটনাটি সেদিন ঘটেছিল। শারীরিকভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে কয়েকজন সামরিক বাহিনীর লোক। তাদের বিচার হয়েছে, ফাঁসি হয়েছে। এটাই কী যথেষ্ট? ইতিহাসকে সঠিক পথে আনার জন্য আমার মনে হয়, আমি যে প্রস্তাব রেখে গেলাম সরকার এটি বিবেচনা করবে।

আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি বোরহান উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক, গবেষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

এফএইচ/এমএএইচ/এএসএম/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।