ভারতীয় সেই যুবক প্রেমকান্ত এবার হাইকোর্টে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৮ এএম, ১২ আগস্ট ২০২২

প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে মারধর ও অপমানের শিকার হওয়া ভারতের তামিলনাড়ুর যুবক প্রেমকান্ত হাইকোর্টে এসেছেন। তিনি আইনি পরামর্শের জন্য আদালতে এসেছেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা নিপার চেম্বারে আইনি পরামর্শ নেন তিনি।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা নিপা জাগো নিউজকে বলেন, প্রেমকান্ত আমাদের কাছে আইনি পরামর্শের জন্য এসেছিলেন। আমরা মনে করি তিনি বিদেশি নাগরিক হলেও বাংলাদেশে তার আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার রয়েছে।

জানা যায়, ভারতের তামিলনাড়ুর যুবক প্রেমকান্ত। বাংলাদেশে থাকেন ‘প্রেমিকা’। তার টানে জুলাইয়ের শেষ দিকে তামিলনাড়ু থেকে বরিশালে আসেন প্রেমকান্ত। তবে ‘প্রেমের টানে’ বাংলাদেশে ছুটে আসা আর সব বিদেশির মতো তার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। বরিশাল শহরে উল্টো পিটুনি খেয়েছেন এ তামিল যুবক।

বাংলাদেশি তরুণীর প্রেমে পড়া প্রেমকান্ত একজন নৃত‌্যশিল্পী। বরিশালে প্রেমিকার সঙ্গে দেখাও হয়েছিল। তবে প্রেমকান্তের বুক ভেঙে দেন বরিশালের এক যুবক। চয়ন হালদার নামে ওই যুবকের দাবি, তিনিই মেয়েটির ‘আসল প্রেমিক’।

সেই চয়নের হাতে পিটুনিও খেয়েছেন প্রেমকান্ত, থানায় থেকেছেন তিন রাত। তবে ভারতের তামিলনাড়ু থেকে বরিশালে এসে তার ‘মারধরের শিকার’ হওয়ার অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ।

দেখা করতে আসা কিশোরীর সঙ্গে গাড়িতে বসে খারাপ আচরণ করায় দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা সেটি সমাধানের চেষ্টা চালায়। উত্তেজিত প্রেমকান্তকে অটো থেকে নামানোর চেষ্টা করেন স্থানীয়রা। মূলত দেখা হওয়ার পর পরই কিশোরীকে কু-প্রস্তাব দিয়েছিল প্রেমকান্ত। সেই সূত্রেই সর্ম্পকের অবনতি হয়।

স্থানীয়রা ভারতীয় নাগরিক দেখে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করলে আত্মরক্ষার্থে মিথ্যার আশ্রয় নেন প্রেমকান্ত। অভিযোগ তোলেন মারধর ও টাকা, মোবাইল নিয়ে যাওয়ার। প্রেমকান্তের এসব অভিযোগ ‘অসত্য’ বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

মূলত কাশিপুরের সড়কে যে ভিডিও ফুটেজের কথা বলছেন, সেখানে ওই যুবকের সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছে। তাকে কেউ মারধর করেনি। স্থানীয়রা তাকে থানায় হস্তান্তর করার পরে তাকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হয়েছে। হাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তার দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য নিরাপত্তা দিয়ে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।

ওই দিন ওসি বলেন, প্রেমকান্ত নামে ওই যুবক বার বার আমাকে বলছিল, সেই কিশোরীকে তার সঙ্গে পাঠানোর জন্য। কিন্তু অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বিয়ে বাংলাদেশে আইন পরিপন্থি কাজ বলার পরও একই দাবি করছিলেন তিনি।

এদিকে গত ৫ আগস্ট বরগুনা জেলার তালতলী থানায় প্রেমকান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তার কথিত প্রেমিকার বাবা। সেখানে তাদের দুজনের প্রেমে ফাটল ধরার কারণ স্পষ্ট।

মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে বন্ধু হলে ২৪ জুলাই প্রেমকান্ত ভারতের তামিল নাড়ু থেকে বরিশালে চলে আসেন। পরের দিন গত ২৫ জুলাই একটি রেস্তোরাঁয় ওই কিশোরী তার তিন বান্ধবীসহ দেখা করে দুপুরের খাওয়া শেষে চলে যায়।

এরপর প্রেমকান্তের অনুরোধে ২৭ তারিখ কাশিপুর এলাকায় দেখা করে। সেখানে অটোরিকশার মধ্যে প্রেমকান্ত ওই কিশোরীকে খারাপ সর্ম্পক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। আবার তার সঙ্গে ঢাকায় আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ওই ছাত্রী প্রেমকান্তের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে দুজনের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা মারাত্মক রূপ নেয়। তাদের বহনকারী গাড়িটি থামিয়ে স্থানীয়রা বাগবিতণ্ডা বন্ধ করে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে জানায়। সেখান থেকে পুলিশ এসে প্রেমকান্তকে হেফাজতে নেয়।

ওই কিশোরীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক তা থানার ওসি নিজে কলেজে এসে নিশ্চিত হয়ে গেছেন। হাই কমিশন ওই যুবককে দেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শও দেন। কিন্তু সে দেশে না ফিরে বিভিন্ন মাধ্যমে আমার অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে, আমার পরিবার নিয়ে নানান কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালিয়ে যায়। এমনকি সেসব কথা টেলিভিশন-পত্রিকাতেও বলেছে। ফলে আমি আমার পরিবার নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকব, তা নিয়ে ঝুঁকিতে আছি। আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ওই যুবকের মিথ্যা তথ্যে আমরা মারাত্মক ক্ষতিতে রয়েছি। আমরা এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

প্রেমকান্তের কথিত প্রেমিকার দাবি, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়েছে। আমি তার প্রেমিকা না। আসলে তার কথায় রাজি না হওয়ায় আমার ক্ষতি করতে উঠেপড়ে লাগে সে।

এফএইচ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।