কম দরদাতাকে জাতীয় চিড়িয়াখানা ইজারা বেআইনি কেন নয়: হাইকোর্ট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২২ এএম, ২৫ আগস্ট ২০২২
ফাইল ছবি

সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা ইজারা দেওয়ার ঘটনা কেন বেআইনি নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানের করা আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন), ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি), মিরপুর চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, মিরপুর চিড়িয়াখানার কিউরেটর এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স শিখা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত সোমবার (২২ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুলসহ এ আদেশ দেন।

ওইদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও গোলাম আব্বাস চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটির্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম এম জি সারোয়ার (পায়েল)।

রুলে বলা হয়েছে, মেসার্স ইউপি ট্রেডিং সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও গত ৭ জুলাই মিরপুর চিড়িয়াখানা মেসার্স শিখা ট্রেডার্সকে ইজারা দেওয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ দরদাতার পক্ষে গত ১৪ জুলাই করা আবেদনটি নিষ্পত্তি না করায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি এবং আইনগত কর্তৃত্ব বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রধান গেটের প্রবেশ ফি, বহি পার্কিং ফি, প্রাণি জাদুঘর ও ফিস অ্যাকুরিয়ামের প্রবেশ ফি এবং চারটি পাবলিক টয়লেটের প্রবেশ ফি এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার জন্য গত ২৯ মে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমানের স্বাক্ষরে এ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

এরপর নির্ধারিত তারিখে দরপত্র উন্মুক্ত করলে দেখা যায় মোট পাঁচটি (০৫) প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে। এরমধ্যে মেসার্স ইউপি ট্রেডিং ১১ কোটি ১০ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করে। আর মেসার্স শিখা টেডার্স ১০ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করে।

এরপর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ গত ৭ জুলাই সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে মিরপুর চিড়িয়াখানা ইজারা দেয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১৪ জুলাই সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউপি ট্রেডিংয়ের পক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের ডিজি সে আবেদনটি নিষ্পত্তি করেনি।

পরে সর্বোচ্চ দরদাতার পক্ষে মো. মাহফুজুর রহমান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রুল জারি করে। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজির কাছে করা আবেদনটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

এফএইচ/এমকেআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।