মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ

নিজামুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ২৬ অক্টোবর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৫ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২
ফাইল ছবি

 

আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নিজামুল হকসহ চার আসামির বিচার শুরু হয়েছে।

এ মামলায় ওপেনিং স্টেটমেন্টের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্যে আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুত সীমন ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার শেখ মোশফেক কবির।

এর আগে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজেদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মামলার তদন্ত শেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

মামলার আসামিরা হলেন-গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার বাসিন্দা মোতাহার উদ্দিন সিকদার (৬৫), ইনায়েত হোসেন মিয়া ওরফে মোল্লা (৬৫), নিজামুল হক মিয়া ওরফে লুৎফর রহমান ওরফে লুথু মোল্লা (৬৮)। তদন্তের স্বার্থে বাকি একজনের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে যুদ্ধ চলাকালীন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও লাশগুমের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। আসামিরা সবাই তৎকালীন মুসলীম লীগের সমর্থক ছিলেন। বতর্মানে তাদের অধিকাংশ আওয়ামী লীগের সমর্থক।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো:

অভিযোগ-১

১৯৭১ সালের ২৮ জুন ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজাকার সদস্য আব্দুল মান্নান মিয়ার নেতৃত্বে রাজাকার মো. ইনায়েত হোসেন মিয়া নিজামুল হকসহ সশ্রস্ত্র ১২-১৩ জনকে নিয়ে নৌকায় করে কাশিয়ানীর ছোট বাহিরবাগ গ্রামের আউয়াল হক মিয়ার বাড়ির পাশে ঘাটে নামেন।

নেমেই এলোপাতাড়ি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। তখন তারা আওয়াল মিয়ার জামাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুমের খোঁজ করেন। তাকে না পেয়ে আওয়াল হক মিয়া ও তার ছেলে সিরাজ মিয়াকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আটক ও অপহরণ করে নৌকায় করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে নিয়ে যাওয়া।

পরে মাসুমকে হাজির করার শর্তে আওয়াল হককে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর সিরাজ মিয়াকে হানাদার বাহিনীর সহায়তায় গোপালগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যেকোনো সময় হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়।

অভিযোগ-২

১৯৭১ সালের ৩ জুলাই কাশিয়ানী উপজেলার ওরাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আব্দুস ছালাম মিয়াকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়। এতেও সহায়তা করেন রাজাকার আব্দুল মান্না মিয়া, ইনায়েত হোসেন, নিজামুল হক।

অভিযোগ-৩

১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই রাজাকার আব্দুল মান্নান মিয়ার নেতৃত্বে রাজাকার ইনায়েত হোসেন মিয়া, নিজামুল হকের একটি সশস্ত্র দল কাশিয়ানীর সিতারামপুর গ্রামে যায়। সেখানে নয়টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন তারা।

ওই গ্রাম ও আশপাশের এলাকা থেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুল কাদের মোল্লা, মকবুল হোসেন, মো. রওশন আলী মোল্লা, আনোয়ার মীর ও আজাহার শেখদের ধরে নিয়ে যান তারা। পাকিস্তানি আর্মিদের সহায়তায় রাজাকাররা কাদের মোল্লাকে বেওনেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে ও মকুবুল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখে।

অভিযোগ-৪

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ২৫ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে রাজাকার আব্দুল মান্নান মিয়ার নেতৃত্বে রাজাকাররা ও পাকিস্তানি বাহিনীর সশস্ত্র দল কাশিয়ানীর রামদিয়া বাজারে প্রবেশ করে। সেখানে তারা স্বাধীনতার পক্ষে থাকা লোকজনদের অন্তত ৫০-৬০টি দোকান লুটপাট করেন ও পুড়িয়ে দেন।

এরপর তারা প্রিন্সিপাল আয়ুবুর রহমানের বাড়িতে লুটপাট করে অগুন লাগিয়ে দেন।

এফএইচ/এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।