জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসছেন প্রধান বিচারপতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর জন্মদিন আজ। বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, বন্ধু ও সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি।

জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনেকেই ফেসবুক পোস্টে তাকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, অভিনন্দন, দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার ও মুখপাত্র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, প্রধান বিচারপতির জন্মদিন আজ। জন্মদিনে আমরা বিচারপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৫৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার রমানাথপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুল গফুর মোল্লা, মায়ের নাম নূরজাহান বেগম। নয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। আপিল বিভাগ থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী তার সহোদর।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৭২ সালে খোকসা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর সাতক্ষীরা আচার্য্য প্রফুল্ল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৭৪ সালে তিনি ওই কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৭৬ সালে স্নাতক পাস করেন।

পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে এমএ করেন। এরপর ধানমন্ডি ল’ কলেজে এলএলবিতে ভর্তি হন এবং ১৯৭৯ সালে আইনবিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ লাভের পর ১৯৮১ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

জেলা আদালতের সফলতার ১৯৮৩ সালের ৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন। দীর্ঘদিন দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনার পর ১৯৯৯ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তভুক্ত হন।

বিচারপতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দীর্ঘ সময় ধরে আইন পেশা পরিচালনার পর ২০০১ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে মনোনীত হন।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০০৯সালের ২৫ মার্চ একই বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

২০১৩ সালের ৩১ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশর ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

এছাড়া বিচারপতি ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএস) চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘদিন অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী তার দীর্ঘ বিচারিক জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ যুগান্তকারী মামলার রায় দিয়েছেন। সেই সব রায়গুলো বিচার বিভাগের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে নিয়োগ দেন।

দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ৪৭ মাস প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন শেষে ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর অবসরে যান তিনি। সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এফএইচ/এমএএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।