বিহারী ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা চেম্বারে বহাল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
ফাইল ছবি

দেশের ৭০টি বিহারী ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নোটিশের কার্যকারিতার ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন তা বহাল রেখেছেন চেম্বারজজ আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীমের চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন বিহারি নেতা সাদাকাত খান ফাক্কুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম সাঈদ আহমেদ রাজা। আদালতে তিনি বিহারিদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সুদন কুমার বনিক।

আইনজীবীরা জানান, এর আগে ৩১ আগস্ট ৭০টি বিহারি ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিহারি সংগঠন ইউএসপিওয়াইআরএম’র সভাপতি সাদকাত খান ফাক্কু, ভারপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা আশরাফুল হক বাবুসহ চার বিহারি নেতার করা রিট খারিজ করেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে প্রতিটি বিহারি ক্যাম্পে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে রায় দিয়েছিলেন।

এছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের বিষয়ে স্থিতাবস্থা জারি করেছিলেন আদালত। অপরদিকে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এসব আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি খসরুজ্জামান ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের বেঞ্চ।

এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন রিটকারী। ওই আপিল শুনানি নিয়ে এই আদেশ দিলেন চেম্বারজজ আদালত।

এর আগে ১৯৭৩ সাল থেকে ৭৬ পর্যন্ত রেডক্রস বিহারী ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল দেবে বলে সিদ্ধান্ত ছিল। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত সরকার বিল দেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু ২০১৭ সালে সরকার জানায় বিহারি ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল আর দেবে না। এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয় বিহারী ক্যাম্পগুলোর পক্ষ থেকে। ২০১৮ সালে হাইকোর্ট থেকে তারা এ বিষয়ে রুল নেয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ যেমন আছে তেমনই থাকবে বলে স্থিতাবস্থা দেন আদালত।

এসময় হাইকোর্ট ক্যাম্পগুলাতে প্রিপেইড মিটার বসানোর নির্দেশ দেন। মিটার বসানো হলে বিল দেবে ক্যাম্প। আর ক্যাম্পগুলোর কাছে পাওনা বকেয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কীভাবে আদায় করা যাবে সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান আদালত।

আইনজীবীরা জানান, একটি সভায় রেজুলেশন পাস করে বিহারী ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয় ত্রাণ মন্ত্রণালয়। পরে ঢাকাসহ সারাদেশের ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের নোটিশ দেওয়া হয়।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এই নোটিশকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টে উর্দু স্পিকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট-ইউএসপিওয়াইআরএমের পক্ষ থেকে রিট করা হয়।

সেই রিটের শুনানি নিয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নোটিশে স্থিতাবস্থা জারি করে বিহারী ক্যাম্পগুলোতে বিদ্যুৎ লাইন যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় রাখার আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এফএইচ/জেডএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।