১০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা

হাইকোর্টে জামিন পেলেন কৃষক আজমল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
ফাইল ছবি

মাগুরায় সরকারি তহবিল থেকে সাড়ে ১০কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কৃষক আজমল মুন্সিকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মোস্তাফা জামান ইসলামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে কৃষক আজমল মুন্সির পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সভাপতি মো. অজিউল্লাহ।

জাগো নিউজকে তিনি বলেন, অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় কৃষক আজমল মুন্সির নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে আজমল মুন্সিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

অজিউল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় জজকোর্টে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাকে ছয় মাসের জামিন দেন। কৃষক আজমলের বাড়ি নড়াইলের লোহাগাড়া উপজেলা। তার নামে অর্থ উত্তোলন করা হলেও তিনি বিষয়টি জানতেন না।

জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল (জিপিএফ), ল্যাম্প গ্যান্ট ও নিরাপত্তা জামানত (ডিপোজিট অ্যাগেইনস্ট ওয়ার্কস অ্যান্ড সাপ্লাই) অ্যাকাউন্ট থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে মোট ১০ কোটি ৪৪ লাখ এক হাজার ৩৪৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট ২৭ জনের বিরুদ্ধে মাগুরার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহফুজ ইকবাল। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পরের যোগসাজশে দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাগুরা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে বাস্তবে কোনো বিল দেওয়া না হলেও জেলা হিসাব রক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নয় কোটি ৬৭ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৩ টাকার অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেক ইস্যু করা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে ২০২০সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নয়জনের ৮১টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একইভাবে অন্য ছয়টি বিলের মাধ্যমে মাগুরা জেলা পুলিশের ছয়জন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের জিপিএফের প্রাপ্য অর্থের অতিরিক্ত ৭৬ লাখ ১১ হাজার ৮১৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ইস্যুকৃত এসব চেকের বিপরীতে কোনো বিল প্রস্তুত করা হয়নি বা হিসাবরক্ষণ অফিসে দাখিল করা হয়নি। আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে এসব বিলের টোকেন অ্যান্ট্রি, বিল অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বরাবর অ্যাডভাইস পাঠানো হয়েছে। যেখানে হিসাব রক্ষণ অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যাংক ও পুলিশের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দুদক।

মামলার আসামিরা হলেন- মাগুরা জেলা পুলিশের সাবেক ও বর্তমান ১৬ সদস্য, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের আটজন, এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও দুজন সাধারণ মানুষ।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বিকেলে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কার্যালয় যশোরের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ২৭ জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার নথি সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মাগুরায় পাঠানো হয়েছে।

এফএইচ/আরএডি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।