মানবতাবিরোধী অপরাধ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খলিলুরকে কারাগারে পাঠালেন ট্রাইব্যুনাল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
খলিলুর রহমান

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খলিলুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেত্রকোনার দুর্গাপুরের খলিলুরকে গ্রেফতারের পর আজ আদালতে উপস্থিত করা হয়েছিল। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ঋষিকেশ সাহা। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।

গত মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে খলিলুরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খলিলুর রহমানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আদালতে ওইদিন রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন, রেজিয়া সুলতানা চমন ও ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী এম এইচ তামিম।

প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন ও ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল ওইদিন জানান, ১১ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ঠিক করে আদেশ দেন। তারই আলোকে এই রায় ঘোষণা করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় আদালত বসেন। এরপর এই মামলায় ২৫৫ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন তিন বিচারপতি।

তারা জানান, রায়টি ছিল প্রথম ট্রাইব্যুনালের ৩৮তম এবং সম্মিলিত উভয় ট্রাইব্যুনালের ৪৯তম। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আনা পাঁচ অভিযোগের মধ্যে সবগুলো প্রমাণ হওয়ায় চারটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং একটিতে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

গত ১৮ জুলাই মামলায় রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তারই ধারাবাহিকতায় রায় ঘোষণার এ দিন ঠিক করা হয়। আদালতে ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।

২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মামলার আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। শুরুর দিকে এ মামলায় পাঁচজন আসামি ছিলেন। এর মধ্যে আসামি রমজান আলী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বাকি চারজনের মধ্যে দুর্গাপুর থানার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আসামি খলিলুর রহমানের ভাই আজিজুর রহমান, একই থানার আলমপুর ইউনিয়নের মৃত তোরাব আলীর ছেলে আশক আলী এবং জানিরগাঁও ইউনিয়নের মৃত কদর আলীর ছেলে মো. শাহনেওয়াজ বিচার চলাকালে বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুবরণ করেন।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা থানা এলাকায় অবৈধ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করা, ধর্ষণচেষ্টা, ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে ২২ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণ, একজনকে ধর্ষণচেষ্টা, অপহৃত চারজনের মধ্যে দুজনকে ক্যাম্পে নির্যাতন, ১৪ থেকে ১৫টি বাড়িতে লুটপাট এবং সাত বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

আসামিদের মধ্যে খলিলুর রহমান ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। পরে দুর্গাপুরের চন্ডিগড় ইউনিয়নের আলবদর বাহিনীর কমান্ডার হন।

এফএইচ/কেএসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।