বুলিং রোধে সব স্কুলে কাউন্সেলর নিয়োগের সুপারিশ করে প্রতিবেদন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৯ এএম, ২১ নভেম্বর ২০২২
হাইকের্ট/ ফাইল ছবি

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয় সংক্রান্ত জাতীয় নীতিমালা করতে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ বা তাদের মতামত নেওয়ার বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও আদালতকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশনার আলোকে ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার একটি প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৯ নভেম্বর পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আদালত।

রোববার (২০ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক–আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই প্রতিবেদন শুনানির জন্যে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। এর পরে এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে বিদ্যালয়ে বুলিং রোধে নীতিমালা বা গাইডলাইন তৈরির অগ্রগতি ২৯ নভেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট।

এদিকে, হাইকোর্টে দাখিল করা ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষক প্রশিক্ষণে ‘বুলিং’ বিষয়ে ধারণা দেওয়া এবং বুলিংয়ের ধরন, কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে শিক্ষকদের সম্যক জ্ঞান দেওয়া প্রয়োজন। সব স্কুলে একজন শিক্ষককে কাউন্সেলর হিসেবে নিয়োজিত করতে হবে; যার কাছে শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যাগুলো অকপটে বলতে পারবে। ওই শিক্ষক মাঝেমধ্যে বুলিংসহ সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে কাউন্সেলিং করবেন।

‘সহপাঠী ও শিক্ষকের বুলিং এক কিশোরের মৃত্যুর অন্যতম কারণ’— এমন অভিযোগে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে এমন সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

‘মোটা বলে সহপাঠী ও শিক্ষকের লাঞ্ছনার শিকার মৃত কিশোরের পরিবার যা বলছে’ শিরোনামে গত বছরের ৮ জুলাই বিবিসি বাংলায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এ বিষয়ে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ একই বছরের ১৬ আগস্ট রিট করেন। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার শিক্ষার্থী ছিল ওই কিশোর।

রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। ওই অভিযোগ তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে ঢাকার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। রিটের পক্ষে আইনজীবী তানভীর আহমেদ নিজেই শুনানি করেন।

ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়, যেহেতু স্কুল বন্ধের প্রায় এক বছর চার মাস পর ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং শিক্ষার্থী অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা রোগে আক্রান্ত ছিল বলে তার বাবা স্বীকার করেছেন; তাই তার মৃত্যু বুলিংয়ের কারণে হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়নি। অন্যদিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় অ্যানোরেক্সিয়া ও বুলিমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরের মৃত্যুর পর তার পরিবার অভিযোগ করেছে যে স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের বুলিংয়ের শিকার হওয়ার ফলে এ ঘটনা ঘটেছে।

২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদ ওই বছরের ১২ মে’র মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয়-সংক্রান্ত জাতীয় নীতিমালা করতে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ বা তাদের মতামত নেওয়ার বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আদালতে তাও জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

তারও আগে ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালা করতে অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন হাইকোর্ট। ওই কমিটি আত্মহত্যা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয়-সংক্রান্ত জন্য কিছু সুপারিশ করার কথা।

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনা আদালতে নজরে আনার পর ব্যাপক উত্তেজনার মধ্যে হাইকোর্ট এই কমিটি গঠন করেন। অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় ওই কমিটিকে। পাঁচ সদস্যের কমিটিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের নিচে নয়- এমন একজন প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, মনোবিদ ও আইনবিদকে রাখতে বলা হয়।

ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অরিত্রির আত্মহত্যার প্রকাশিত খবর সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী নজরে আনেন। এরপর হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। আইনজীবীরা হলেন- ব্যারিস্টার অনীক আর হক, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইনুন্নাহার সিদ্দিকা ও জেসমিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এফএইচ/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।