পাঠ্যপুস্তকে ভুল

এনসিটিবির চেয়ারম্যানসহ দুইজনকে ফের তলব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫১ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০২২
ফাইল ছবি

ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম ও একাদশ শ্রেণির বইয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়ে ভুল তথ্য থাকার পর তা সংশোধন সঠিক না হওয়াই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানসহ দুইজনকে আবারও তলব করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) আদালতে তাদের স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলেছেন হাইকোর্ট। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী মোস্তফা খান অপু।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আলী মোস্তফা খান অপু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট হাফিজ।

২৯ নভেম্বর এনসিটিবির চেয়ারম্যান হাইকোর্টে হাজির হয়েছে জানিয়ে অ্যাডভোকেট আলী মোস্তফা খান অপু বলেন, তারা ভুলগুলো সংশোধন করেছেন তবে সব শেষ করতে পারেননি। এসময় অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেন এক ভুল বার বার হচ্ছে কেন। কোন কমিটি এটা করছে তাদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্তই বা নিয়েছে এনসিটিবি। তবে এনসিটিবির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে হাইকোর্ট পুরো সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ করে ফের হাইকোর্টে আসতে বলেছেন। প্রয়োজনে সংবিধান বিশেষজ্ঞের পরামর্শও নিতে বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সংশোধন করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও সদস্যকে ফের তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়। ওই প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী আদালতে উপস্থাপন করেছিলেন। তখন আমরা বলেছি— যেসব ভুল চিহ্নিত করেছি সেগুলো সংশোধন করার চেষ্টা করা হলেও কিন্তু এরকম আরও ভুল রয়েছে পাঠ্যপুস্তকের বিভিন্ন পৃষ্ঠায়। তখন আদালত সংশ্লিষ্টদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে তাদের তলব করার আদেশ দেন।

এর আগে ২০২১ সালে ভুলের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যবইতে থাকা ভুল সংশোধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষাসচিব, ন্যাশনাল কারিকুলাম অ্যান্ড টেক্সটবুক বোর্ডের চেয়ারম্যান, সদস্য (কারিকুলাম) ও সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি হয় এবং তাদের দুজনকে তলব করার আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে— নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ের ১৭৪ পৃষ্ঠায় ৯ নম্বর লাইনে আছে, দলীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু হবে আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৮৭ পৃষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমানকে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বলা হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি বলা হয়েছে। একই বইয়ের সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদের লাইনটিও ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

নবম ও দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ২৯ পৃষ্ঠায় বঙ্গভবনকে লেখা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট ভবন’। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল পাঁচ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সংবিধানের কোথাও আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকালের কথা উল্লেখ নেই।

এমন অসংখ্য ভুল সংশোধন করতে অনেক অভিভাবক এনসিটিবি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও কর্ণপাত করেননি তারা। শেষপর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এক অভিভাবক।

এফএইচ/এমএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।