‘তারেক রহমান এখানে আসবে কেন, উনি তো আপিল করেননি’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:০৮ এএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেট হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোনো আপিল দেখিনি, ওনার বিষয়টা এখানে আসবে কেন তিনি তো মেনেই নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন।

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ক্ষেত্রে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের বিষয়ে কি হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে সব আসামির বিষয়ে শুনানি হবে। যেহেতু উনার (তারেক রহমানের) কোনো আপিল আমি দেখিনি। উনার বিষয়তো আসবে না। কারণ যেহেতু উনার কোনো বিষয়ে আপিল নেই। উনার বিষয়টা আসবে কেন? উনি তো মেনে নিয়েছেন।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এ মামলার শুনানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের যেটা প্রয়োজন সেটা পড়ে শোনাবেন যুক্তিতর্ক করবেন। যুক্তিতর্ক করার সুযোগ পাবেন তারা। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের সময় দেওয়া হবে, কিন্তু কেউ যদি মনে করে ডিলে করবে তখন তো আমরা সেটি আদালতে তুলে ধরবো। আমরা চাই মামলাটি যেন নিষ্পত্তি হয়। মামলা নিষ্পত্তি হোক, ন্যায়বিচার যেমন আসামিদের আছে একইভাবে যারা ভিকটিমদেরও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।

তিনি বলেন, এই যে এত বড় একটি ঘটনা, এতগুলো মানুষ মারা গেলো। এত নৃশংস কাজ হলো। সেটার তো বিচার শেষ করতে হবে। বিচারটা পাওয়ার অধিকার তাদেরও আছে যারা ভিকটিম।

মামলা দুটো কোনটার বিচার শুরু করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মামলা দুটো হলেও সবকিছু কাগজপত্র একই। শুধু অভিযোগপত্র দুটো অতএব একটা শুনানি হলেও দুটিতে যুক্তিতর্ক করা যাবে। এ বিষয়ে আপিল হয়েছে ২২টার মতো।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আজকে এফআইআর পড়ার পর ‍ওই মামলার অভিযোগপত্রের কিছু অংশ পড়া শুরু হয়েছে। কাল অথবা পরশু দিনের ভেতরে হয়তো বা অভিযোগপত্র পড়া শেষ হবে। আদালত শোনেছেন, আমরা মনে করি এ বছরে হয়তো বা শেষ হবে না। কিন্তু আগামী বছর প্রথম দিকে হয়তো বা শেষ হতে পারে।

রাষ্ট্রপক্ষের আর্জি কি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরই মধ্যে এটা পড়ার প্রস্তুতি নিয়েছি, আমাদের প্রার্থনা থাকবে যে, প্যানাল কোর্টের রায়টি অত্যন্ত সুলিখিত কারণ দেখিয়ে তিনি (বিচারক) রায়টা দিয়েছেন। আমরা আশা রাখবো, মামলায় বিচারিক (নিম্ন) আদালতের রায়ের শাস্তিটা বহাল থাকবে।

আপিল শুনানিতে দীর্ঘসময় নিয়েছেন করোনার কারণেও পিছিয়েছেন এখন টাইমফ্রেমের কথা বললেন এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, টাইম ফ্রেম না। আমি বলছি, আশা করা যায় খুববেশী হলো হয়তো দুই মাসের মতো সময় লাগতে পারে। এর বেশীতো আর লাগবে না। বড় মামলা পড়তে সময় লাগবে। সবগুলো পড়া শেষ হলে দুই পক্ষ যুক্তিতর্ক করবে খুব বেশী সময় লাগবে না। আশা করছি, আগামী বছরের প্রথম দিকেই শেষ হবে।

এর আগে সকালে এ মামলার ডেথ রিফারেন্স ও আসামীদের করা আপিল শুনানি করা হয়ে পরবর্তী শুনানির জন্যে আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ঠিক করেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে ২৪ জন নিহত হন। আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী।

নৃশংস ওই হামলার ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের করা আপিল ও জেল আপিলের বিষয়ে হাইকোর্টের শুনানি শুরু হয়েছে আজ।এ বিষয়ে প্রথম দিনের শুনানি শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট। এদিন মামলার এফআইআর ও চার্জশিটের অংশ থেকে পাঠ করা শুরু হয়েছে।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে বেঞ্চ এ আপিলের বিষয়ে শুনানি শুরু করে পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শিশির মনির।এর আগে গত ৩০ অক্টোবর মামলিাটি শুনানির জন্যে আজকের এই দিন ঠিক করে আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর এ মামলার আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এর পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে।

গত আগস্টে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল, জেল আপিল দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। পরে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল, জেল আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি।

২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলায় আইভি রহমানসহ নিহত হন ২৪ জন। সে হামলায় ২০১৮ সালে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। সে ফাঁসির সাজা নিশ্চিত করতে ও আসামিদের করা আপিল শুনানি করা হচ্ছে। শুনানি হাইকোর্ট এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করবেন আসামি পক্ষ। আসামিদের ফাঁসি বহাল থাকলে তারা প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারবেন।

এফএইচ/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।