শিক্ষার্থী অমিত হত্যা

মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমে দুই আসামির যাবজ্জীবন, অন্যজন খালাস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

প্রায় ১০ বছর আগে রাজধানীর পল্লবীতে বেসরকারি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অমিত সাহা হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার দুই বন্ধুকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের সাজা কমিয়ে যাব্জ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন পাওয়া অন্য আসামিকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন উচ্চ আদালত।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- আসফাক আহম্মেদ শিহাব ও আল-আমিন। আর খালাস পাওয়া একমাত্র আসামি হলেন রুহুল আমিন রুবেল।

তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল আবেদন করবেন বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রেজাউল করিম।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রেজাউল করিম। আর আসামি আশফাক আহমেদ শিহাবের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম। আর আল আমিন ইসলাম পিন্টুর পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মমতাজ বেগম। রুহুল আমিন রুবেলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল ও সাফায়েত হোসেন সজীব।

ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর পল্লবীর এক বাসায় খুন হন ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অমিত। ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র ছিলেন তিনি। হত্যাকারীরা তার মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে বাসা থেকে ল্যাপটপ, ট্যাব, সোনার গয়নাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর তিনজনের নাম উল্লেখ করে ওই বছরের ২২ নভেম্বর থানায় এফআইআর করা হয়।

২০১২ সালের ৪ নভেম্বর স্ত্রী রিক্তা ও ছেলে অমিতকে নিয়ে তীর্থ দর্শনে ভারতে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ী শ্যামল চন্দ্র সাহা। বিশ্ববিদ্যাললয়ের চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা দিতে বাবা-মাকে ভারতে রেখেই ওই বছরের ১০ নভেম্বর দেশে ফেরেন অমিত।

দেশে ফেরার পর পল্লবীর বাসায় মামা কৃষাণ সাহার সঙ্গে থাকছিলেন অমিত। ঘটনার দিন বিকালে কৃষাণ সাহা কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে অমিতের শোবার ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে টাই দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ ঝুলতে দেখেন।

খবর পেয়ে দেশে ফিরে ছেলের বন্ধু শিহাব, পিন্টু ও রুবেলের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন শ্যামল সাহা।

আসামিরা প্রথমে ওই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করলেও পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তাদের কাছ থেকে লুট করা কিছু মালামালও উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। একই বছরের ২৪ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলায় ৩২ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মোট ২১ জন সাক্ষ্য দেন।

বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন।

রায়ে শিক্ষার্থী অমিত সাহা হত্যার আসামি আসফাক আহম্মেদ শিহাব ও আল-আমিন ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। অন্য আসামি রুহুল আমিন রুবেলকে যাবজ্জীনব সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে তিন আসামিকেই দণ্ডবিধির ৩৯৪/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।

পরে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। অন্যদিকে আসামিরা আপিল আবেদন করেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রেজাউল করিম জাগো নিউজকে জানান, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামির দণ্ড কমিয়ে তাদের যাবজ্জীবন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর যাবজ্জীবন দণ্ডিত আসামিকে খালাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

এফএইচ/এমকেআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।