আইনজীবীকে সতর্ক, ২৪০ কোটি টাকা পাচারকারীর বিষয়ে আদেশ আজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৯ এএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২
ফাইল ছবি

অর্থপাচারের অভিযোগের মামলায় আসামির জামিন আবেদনে তথ্য গোপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারিয়া বিনতে আলমকে সতর্ক করে আজ এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য দিন ধার্য রেখেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এমন ক্ষোভ প্রকাশ করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। তিনি বলেন, এ মামলায় বিচারিক আদালতে আসামিকে হাজিরের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আসামি হাজির হননি। এমন তথ্য গোপন করা হয়েছে। আদালত বুঝতে পেরে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারিয়া বিনতে আলমের ওপর রাগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় তাকে (আইনজীবী আলম) সতর্কও করা হয়।

এসময় হাইকোর্ট আইনজীবীকে আরও বলেন, আপনি কার পক্ষে লড়তে এসেছেন আইনজীবী হিসেবে! জীবনের শুরুতেই এমন ক্লায়েন্ট নিয়ে আসলেন? আদালত আরও বলেন, এখন সমাজে কাদের আস্ফালন? এটা কীসের আলামত, আমরা কোথায় যাচ্ছি।

আদালতে এদিন শুনানিতে ছিলেন দুদকের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আর আসামি পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এসএম আবুল হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ফারিয়া বিনতে আলম। যদিও প্রথমার্ধে আদালতে এ দিন আসামির আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফারিয়া বিনতে আলম। এরপরে তিনি তার সিনিয়র হিসেবে অন্য আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম আবুল হোসেনকে নেন।

এদিন ২৪০ কোটি ৫ লাখ ১৬০ টাকা পাচারের অভিযোগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবু আহমদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৫ ডিসেম্বর) ২৪০ কোটি ৫ লাখ ১৬০ টাকা পাচারের মামলায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবু আহমেদ জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু করেন আইনজীবীরা।

জামিন আবেদন শুনানিতে বিচারিক (নিম্ন) আদালতে আসামি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। জামিন আবেদনে এমন তথ্য গোপন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হলে আসামি আদালত থেকে কৌশলে চলে যান। এর পর মঙ্গলবার দিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

সোমবার আসামি পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, জাকির হোসেন ও ফারিয়া বিনতে আলম শুনানি করেন। তারা আদালতের কাছে জামিন আবেদনের ওপর নির্দেশনা চান। আদালতে আসামির আইনজীবী বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিশেষ আদালতে নথি পৌঁছেনি।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিকের বিরোধিতা করে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিশেষ আদালতে নথি পৌঁছা এক ঘণ্টার ব্যাপার। কিন্তু কেন এতদিনেও নথি পৌঁছাল না এর সুবিধাভোগী এ আসামি। আসামিকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হোক। আবার আত্মসমর্পণের নির্দেশনা দেওয়া হলে হয়ত সে বারবার সময় নিয়ে আবারো বিষয়টিকে বিলম্বিত করবে।

আসামির আইনজীবী ফারিয়া বিনতে আলম বলেন, আসামির কোনো দোষ নেই। রেকর্ড না যাওয়ার কারণে জামিন শুনানি হয়নি। পরে অসুস্থ থাকার কারণে আদালতে হাজির না হতে পারায় সময় আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে। তবে তা আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়নি। শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছিলেন আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে আজ আদেশের জন্য রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২৪০ কোটি ৫ লাখ ১৬০ টাকা পাচারের অভিযোগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবু আহমদসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ কোতয়ালি থানায় মামলা করে সিআইডি।

বিএফআইইউ থেকে প্রাপ্ত ব্যাংক হিসাব বিবরণী, কাগজপত্র পর্যালোচনা, লেনদেনের ধরণ এবং আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, আসামিরা একে অন্যের সহায়তায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েকটি ব্যাংক হিসাব নম্বরে ১২ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বর্ণ চোরাচালান, চোরাই ও অন্যান্য দ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা ও হুন্ডির মাধ্যমে ২৪০ কোটি ৫ লাখ ১৬০ টাকার পাচারের অর্থ দিয়ে গাড়ি, বাড়ি ও মার্কেটসহ বিভিন্ন সম্পত্তি অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানানো হয়।

এফএইচ/এমআইএইচএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।