মিতু হত্যা

বাবুলের জামিন নিয়ে হাইকোর্টের রুলের শুনানি ১২ ডিসেম্বর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২
মাহমুদা আক্তার মিতু

চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি গ্রহণ শুরু হয়েছে আজ (বুধবার)। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১২ ডিসেম্বর দিন ঠিক করেছেন আদালত। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

তিনি বলেন, আদালতে আজ আসামি পক্ষের আইনজীবী মামলার চার্জশিট পড়ে শুনিয়েছেন। এরপরে সিনিয়র আইনজীবী শুনানি করবেন বলে সময় চেয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় দিন ঠিক করেছেন আদালত।

শুনানি নির্ধারিত দিনে বুধবার (৭ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বাবুল আক্তারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে বলেন, মিতু হত্যায় বাবুলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ নেই। ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন। ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় হেলিকপ্টারে করে তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হলেও এর সপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ নেই।

এর আগে গত ১৪ মে চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

ওইদিন আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে ওই মামলায় নিম্ন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে গত ৬ মার্চ আবেদন করেন বাবুল আক্তার। শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ আদালত রুল দেন। বাবুল আক্তারকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।

এরও আগে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত স্ত্রী মাহমুদা খানম হত্যার ঘটনায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর পরে তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের নগরীর জিইসি মোড় নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ওই সময় এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। ঘটনার সময় মিতুর স্বামী তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার অবস্থান করছিলেন ঢাকায়। ঘটনার পর চট্টগ্রামে ফিরে তিনি পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে গত বছরের ১২ মে এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় স্ত্রী হত্যাকাণ্ডে তারই সম্পৃক্ততা পায় পিবিআই।

এরপর গত বছরের ১২ মে আগের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন।ওইদিনই মামলাটিতে বাবুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পিবিআই। সেই থেকে কারাগারে আছেন তিনি।

বাবুল ও শ্বশুরের করা দুটি মামলা তদন্ত করে পিবিআই। শ্বশুরের মামলায় চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। এই প্রতিবেদন গ্রহণ করে বাবুল আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে বাবুল আক্তারের করা মামলায় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ মামলায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বাবুল আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্র গত ১০ অক্টোবর গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। বাবুল আক্তার বর্তমানে ফেনী কারাগারে রয়েছেন।

এফএইচ/আরএডি/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।