মামলার অভিযোগে পুলিশ

যোগসাজশে নয়াপল্টনে অবস্থান নেন রিজভী-আমানসহ ৪৫০ নেতাকর্মী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২
ফাইল ছবি

১০ ডিসেম্বরের ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানসহ দলের ৪৫০ নেতাকর্মী পরস্পর যোগসাজশে চাউল-ডাল মজুত করে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

দেশে অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধিয়ে দেয় তারা। বাশের লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা গুরুত্বব জখম এবং জনমতে আতঙ্কসৃষ্টিসহ ব্যক্তি বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ করেন।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় রুহুল কবির রিজভীসহ ৪৫০ জনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় রিজভীসহ ৪৩৫ জনকে কারাগারে রাখা ও ১৫ জনকে সাতদিনের নিতে আবেদন করে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেন্টু মিয়া আবেদনে এ কথা উল্লেখ করেন।

এদিন সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবীবসহ ১৫ জনকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ। এছাড়া রিজভীসহ ৪৩৫ জনকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

রিমান্ডে নিতে আবেদন করা অন্য আসামিরা হলেন— বিএনপির সহ-জলবায়ু সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলুজ্জামানান সেলিম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, বিএনপি নেতা শাহজাহান, এ কে এম আমিনুল ইসলাম, ওয়াকিল আহমেদ, সজীব ভূঁইয়া, সারোয়ার হোসেন শেখ, সাইদুল ইকবাল মাহমুদ, মিজানুর রহমান, আল-আমিন, সাইফুল, শুভ ফরাজি ও মাহমুদ হাসান রনি।

বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু-তদন্তের জন্য তাদের সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন তাদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানসহ ৪৩৫ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই আদালত।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বিএনপি চেয়ারপাসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল।

বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন অনেকে। এসময় বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে চাল, পানি, খিচুড়ি, নগদ টাকা ও বিস্ফোরকদ্রব্য পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।

অভিযান চলাকালে নয়াপল্টন থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৭৩ জনের নামোল্লেখ করে পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা করে। মামলায় ৪৭৩ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত দেড় থেকে দুই হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপি চেয়ারপাসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল।

জেএ/এমএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।