আজ স্ত্রীর প্রশংসা করেছেন তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
ছবি : শাটারস্টক

স্ত্রীকে খুশি রাখতে তার প্রশংসা করুন। আপনার বিবাহিত জীবন যতদিনেরই হোক না কেন দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো রাখতে স্ত্রীর গুণগান গাইতেই হবে।! শুধু অর্থ দিয়েই সংসারে সুখ আনা যায় না। এজন্য পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও বিশ্বাসও জরুরি।

অনেক স্বামীই তার স্ত্রীর কোনো কাজের প্রশংসা করেন না। স্ত্রী তা প্রকাশ না করলেও নিজের মধ্যে অনেক অভিমান ও ক্ষোভ পুষিয়ে রাখেন। নারী-পুরুষ সবাই প্রশংসাসূচক বাক্য শুনতে ভালোবাসেন।

ধরুন, আপনার স্ত্রী খুব ভালোবেসে আপনার জন্য কোনো খাবার রান্না করেছেন! তা খেতে যেমনই হোক পরিশ্রমের জন্য অন্তত স্ত্রীকে ভালোবাসে তার রান্নার প্রশংসা করতে পারেন। এমনকি তার ছোট ছোট কাজের জন্যও তাকে বাহবা দিতে পারেন। যা আপনাদের সম্পর্ক আরও গাঢ় করবে।

আর যদি আপনি তার মুখের উপরই বলে দেন, ‘তোমার রান্না ভালো হয়নি’, ‘তোমার দ্বারা এসব কাজ হবে না’, ‘তুমি পারবে না’ কিংবা ‘তুমি কোনো কাজের যোগ্য না’ ইত্যাদি। আপনার ছুঁড়ে দেওয়া এসব মন্তব্যে স্ত্রীর কাজের প্রতি উৎসাহ কমে যাবে। একইসঙ্গে আপনার প্রতি ক্ষোভ জন্মাবে তার মনে। নিজেদের মধ্যকার সম্পর্কেও আসবে তিক্ততা। তাই স্ত্রীর সমাদর করতে শিখুন।

আমাদের সমাজে কিছু রীতি প্রচলিত আছে যেমন- পুরুষেরা ঘরের কাজ করবে না। ঘরের কাজ ও সন্তান লালন পালনের দায়িত্ব শুধুই নারীদের। এমন ধারণা একদমই ভুল। কারণ সংসার করার দায়িত্ব শুধু নারীর উপরই বর্তায় না। সুখী সংসার ও দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের অবদানই প্রয়োজন।

আপনি হয়তো সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে গিয়ে আরাম করতে চাইছেন। ভাববেন স্ত্রী তো ঘরেই থাকে তার আবার আরাম কীসের? মনে রাখবেন, আপনার স্ত্রী কিন্তু সারাদিন ঘরে বসে বা শুয়ে সময় পার করেননি। তিনিও সারাদিন ঘরের কাজ, সন্তানের দেখভাল, রান্নাসহ সব কাজই করেছেন। অনেক নারীই চাকরিজীবী, তারা অফিস ও সংসার দু’টোই সামলান। সেটাও মাথায় রাখবেন!

তাই ঘরে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলুন। তার কিছু কিছু কাজের প্রশংসা করুন। একইসঙ্গে কিছু কাজ ভাগ করে নিন যেমন-বিছানা গোছানো, মশারি টাঙানো, থালা-বাসন গুছিয়ে রাখা, বাচ্চাদের পড়ানো, বোতলে পানি ভরা ইত্যাদি কাজ আপনি অল্প সময়েই করতে পারেন।

আজ স্ত্রী প্রশংসা দিবস। ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রোববার সারাবিশ্বে এই দিবসটি পালন করা হয়। এই দিবস সম্পর্কে হয়তো অনেকেই জানেন না। এই দিবসটি পালিত হয় স্বামীরা তাদের স্ত্রীকে কতটা ভালবাসেন ও প্রশংসা করেন তা প্রদর্শনের জন্য।

আজকের দিনে স্ত্রীর জন্য একগুচ্ছ ফুল নিয়ে তার সামনে হাজির হতে পারেন। আপনার জীবনে তার অবদান কতটুকু তা মুখে জানান বা একটি কার্ডে লিখে ফুলের সঙ্গে দিন। কিংবা স্ত্রীর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে তাকে নিতে পারেন লং ড্রাইভে, পছন্দের কোনো জায়গায়, রেস্টুরেন্ট বা শপিংয়ে।

জেএমএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]