টেম্পু পাশা : নাইট শিফট- পর্ব ১৪

ড. রাজুব ভৌমিক
ড. রাজুব ভৌমিক ড. রাজুব ভৌমিক , কবি ও লেখক
প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

তখন প্রায় রাত দুইটা বাজে। মুন্নি জঙ্গলের ভেতর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করেছে। হাঁটার সময় মাটিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতার মচমচ শব্দ হচ্ছে।

এদিকে মুন্নি ভাবছে, পাশা হয়তো এর মধ্যে তার গাড়ি নিয়ে জঙ্গল থেকে চলে গেছে। মুন্নির আঘাতে পাশা আহত সেটা সে খুব ভালো করে জানে। তাছাড়া রাত এখন অনেক গভীর। সে পাশার যাবার সময় জঙ্গলের শুকনো পাতার মচমচ শব্দ দূর থেকে শুনতে পেয়েছে। তাই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে মুন্নি জঙ্গলে হাঁটতে শুরু করে। কিন্তু জঙ্গলের মধ্যে একটি গাছের আড়ালে পাশা মুন্নির জন্য যে অপেক্ষা করছে, সেটা সে জানে না। মুন্নি জঙ্গলের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে প্রায় পাশার কাছে চলে আসে। পাশা সব দেখছে আর সঠিক মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছে। যেমন বাঘ তার শিকার হরিণের জন্য অপেক্ষা করে। মুন্নি আরও কাছে এলে পাশা বাঘের মত মুন্নির উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

পাশা আর মু্ন্নির মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। কিছুক্ষণ হাতাহাতির পর পাশা মুন্নির মাথায় একটি পাথরের টুকরা দিয়ে সজোরে আঘাত করে। সাথে সাথে মুন্নি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পাশা একটি বড় দীর্ঘশ্বাস নেয়। সে জঙ্গলের মাটির উপরে বসে পড়ে। পাশার সারা শরীর ব্যথা করছে। মুন্নি পাশাকে আজ অনেক আঘাত করেছে। পাশা জঙ্গলের ঘাসের উপর বসে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়। তারপর পাশা মুন্নিকে তার কাঁধে তুলে নেয়। মুন্নিকে নিয়ে পাশা তার গাড়ির দিকে অগ্রসর হয়। পাশা মুন্নিকে তার গাড়ির পেছনের সিটে রেখে এদিক-ওদিক ভালোভাবে তাকায়। এরপর পাশা তার গাড়ির ট্র্যাংক থেকে রশি এবং ডাক্ট টেপ হাতে নেয়। রশি দিয়ে পাশা মুন্নির হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলল। ডাক্ট টেপ দিয়ে পাশা মুন্নির মুখটি বন্ধ করে দেয়, যাতে মুন্নির জ্ঞান ফিরলে চিৎকার করতে না পারে।

মুন্নির মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। পাশা এতক্ষণ তা খেয়াল করেনি। পাশা লক্ষ্য করল, তার শরীরে মুন্নির মাথা থেকে ঝরা রক্ত লেগে আছে। এরিকাকে খুন করার পর থেকে পাশা সবসময় তার গাড়িতে এবং ট্রাকে অতিরিক্ত জামা-প্যান্ট রাখে। সাথে ব্লিচ ও অতিরিক্ত কাপড়ের টুকরা তার গাড়ির ট্র্যাংকে জমা রাখে। পাশা তার গাড়ির ট্রাংক থেকে তার জন্য অতিরিক্ত জামা-প্যান্ট, ব্লিচের কন্টেইনার এবং অতিরিক্ত তোয়ালে আনে। পাশা প্রথমে তার রক্তাক্ত জামা-প্যান্ট খুলে নতুন জামা-প্যান্ট পরে। এরপর একটি তোয়ালে দিয়ে মুন্নির মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্ত পরিষ্কার করে নেয়। আরেকটি কাপড়ের টুকরা দিয়ে পাশা মুন্নির মাথা শক্ত করে বেঁধে নেয়। এরপর পাশা মুন্নিকে তার গাড়ির ট্রাংকের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখে। পাশা তরল ব্লিচ দিয়ে তার গাড়ির ভেতর ভালোভাবে পরিষ্কার করে। পাশা গাড়ি থেকে তার টর্চলাইটটি হাতে নেয়। জঙ্গলের ভেতরে রক্ত পড়ছে কিনা তা দেখতে এবং পরিষ্কার করতে টর্চ-লাইট ও তরল ব্লিচের কন্টেইনারটি হাতে নিয়ে জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশ করে। পাশা জঙ্গলের ভেতরে গিয়ে অবাক। কারণ জঙ্গলের মাটিতে তেমন কোন রক্ত দেখা যাচ্ছে না। পাশা বুঝতে পারে, মুন্নির মাথা থেকে পড়া বেশিরভাগ রক্ত তার গায়ে পড়ছে। পাশা জঙ্গলের ভেতর যে জায়গায় মুন্নির মাথায় আঘাত করে, সেখানে মাটির উপর কিছু রক্ত দেখতে পায়। পাশা তরল ব্লিচ দিয়ে সে রক্ত ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেয়। এরপর পাশা তার গাড়ির দিকে ফিরে যায়।

রাত প্রায় সাড়ে তিনটা বাজে। পাশা তার গাড়ি চালু করে। এ সময় হাইওয়েতে তেমন কোন গাড়ি নেই বললেই চলে। পাশা দ্রুত তার গাড়ি চালিয়ে কুইন্সে তার ট্র্যাকের কাছে পৌঁছে যায়। তার গাড়িটি পাশা ট্র্যাকের পেছনে পার্ক করে। পাশা চাবি দিয়ে তার গাড়ির ট্র্যাংক খুলল। সে দেখে মুন্নির এখনো জ্ঞান ফেরেনি। মুন্নিকে পাশা তার কাঁধে তুলে নেয়। এরপর মুন্নিকে ট্র্যাকের ভেতরে মেঝেতে সাবধানে রাখল। পাশা তার গাড়িটি চাবি দিয়ে লক করে ট্র্যাকের ভেতর প্রবেশ করে। পাশা তার ট্র্যাকের দরজা ভালোভাবে লাগিয়ে দেয়। মেঝে থেকে তুলে নিয়ে পাশা মুন্নিকে এবার তার মাংস কর্তনের টেবিলে তুলে রাখে। পাশার ট্রাকটি হিমায়িত তাই একটু ঠান্ডা লাগাতে মুন্নির জ্ঞান ফিরে আসে। পাশা তখন মুন্নিকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘আমার সব খুনের মধ্যে তুমি সবচেয়ে বেশি প্রিয়। তুমি আমার সাথে বহু লড়েছ। তাই তোমাকে আমার এত ভালো লাগছে। তুমি আমার জীবনে সত্যি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ পাশা আরও বলল, ‘আমি আগে আমার শিকারের বুকের মধ্যে ধারালো চুরি সজোরে চাপিয়ে আমার মগজের লালসা মিটাতাম। আজ আমি অন্যভাবে তোমাকে খুন করব। অনেক সুন্দর সময় কাটবে।’ বলে পাশা চেইন করাত মেশিনটি তার হাতে নেয়। মুন্নি তখন কিছু একটা বলার খুব চেষ্টা করছে। কিন্তু বলতে পারছে না। কারণ তার মুখটি ডাক্ট টেপ দিয়ে বাঁধা। পাশা বলল, ‘তোমাকে কিছু বলতে হবে না। আমি সব জানি, তুমি কী বলতে চাও। আমি তোমার মনের কথা বুঝতে পারি। চিন্তা করো না। আমি তোমার দায়িত্ব নিলাম।’ বলার সময় পাশা চেইন করাত মেশিনটি দিয়ে মুন্নির ডানহাত কর্তন করে শরীর থেকে আলাদা করে ফেলল। ‘আমি সাধারণত খুন করার পর আমার শিকারের শরীরের মাংস কেটে কিছুটা অন্য মাংসের সাথে মিশিয়ে বিক্রি করি। আর কিছুটা নিজের জন্য বাসায় নিয়ে যাই। কিন্তু তুমি জানো, আমি যখন আমার শিকারকে ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যা করি প্রথমে আমার অনেক ভালো লাগে। হত্যা করার পরে যখন আমার শিকারের মাংস কাটি; তখন নিজেকে খুব একা একা লাগে। তাই আজ ভাবলাম, তোমার চোখের সামনে আমি মাংস টুকরা টুকরা করে কাটব। তাতে আমার একাকিত্ববোধটা অন্তত হবে না। দারুণ সময় কেটে যাবে, কী বলো?’

পাশা মুন্নির ডান হাতটি কাটার পর তার হাতের বাকি অংশে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেয়। যাতে মুন্নির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যু না ঘটে। এরপর পাশা মুন্নির চোখের সামনে তার ডানহাত থেকে মাংস কেটে টুকরা টুকরা করে একটি ব্যাগে রাখে। আর আরেকটি ব্যাগে পাশা অবশিষ্ট হাড্ডিগুলো রাখে। ‘কী বল? সুন্দর আইডিয়া না? হাড্ডিগুলোকে পরে মিট গ্রাইন্ডারে দিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করে সাগরে ভাসিয়ে দেব। তুমি তা দেখতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু তা এখন সম্ভব নয়। তোমার মাংসগুলোকে বিভিন্ন গ্রোসারিতে গরুর এবং ছাগলের মাংসের সাথে মিশিয়ে বিক্রি করে দেব। তাতে টাকাও বেশি উপার্জন হবে। আবার তোমার মরদেহ নিয়ে আমার ঝামেলায় পড়তে হবে না।’ পাশা মুন্নিকে শান্ত গলায় বলল। এদিকে মুন্নি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে আর কিছু বলার চেষ্টা করছে। ‘ভালো কথা? তোমার বাবার জ্যাকসন হাইটসে একটি গ্রোসারি দোকান আছে না? আমার মনে আছে, তুমি ক্যাবে উঠে আমাকে বলেছিলে যে, তোমার বাবার জ্যাকসন হাইটসে একটি গ্রোসারি দোকান আছে। কালকে সেখানে আমার মাংসের ডেলিভারি দেবার কথা।’ পাশা স্মরণ করার চেষ্টা করছে। আর মুন্নির চোখের পানি পড়ছে। ‘চিন্তা কর না। আমি বেশিক্ষণ সময় নেব না। প্রায় ভোর হয়ে যাচ্ছে। আমাকে আবার বাড়িতে যেতে হবে। আমিও অনেক ক্লান্ত।’ বলতে বলতে পাশা মুন্নির বামহাতটি কেটে ফেলল। আগের মত পাশা মুন্নির বামহাতটি কর্তন করে শরীর থেকে আলাদা করার পর তার হাতের বাকি অংশে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেয়। যাতে মুন্নি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে মারা না যায়। পাশা মুন্নির বামহাত থেকে মাংস কেটে টুকরা করে একটি ব্যাগে রাখে। আর আরেকটি ব্যাগে পাশা হাড্ডিগুলো রাখে।

এবার পাশা মুন্নির পরা জিন্সের প্যান্টটি সম্পূর্ণভাবে টেনে খুলে ফেলল। মুন্নি তার দুই হাত হারানোর যন্ত্রাণায় কাতরাচ্ছে। মুন্নি তার মাথাটি মাংসের টেবিলের সাথে জোরে জোরে ঠুকছে। তা দেখে পাশার মেজাজ গরম হয়ে যায়। পাশা মুন্নির মুখে বাঁধা ডাক্ট টেপটি খুলে নেয়। ‘প্লিজ, আমাকে মেরে ফেলুন। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। প্লিজ...’ মুন্নি পাশাকে বলল। ‘তোমার মৃত্যু হবে আমি যখন চাইব, এর এক সেকেন্ড আগে নয়। শুধু শুধু আমার মুডটা খারাপ করে দিলে। মেজাজও খারাপ হয়ে গেল। আর এ রকম একদম করবে না, কেমন?’ পাশা মুন্নিকে বোঝাতে চেষ্টা করে। পাশা ডাক্ট টেপ দিয়ে মুন্নির মুখটি আবার শক্ত করে বেঁধে নেয়।

পাশা তার চেইন করাত মেশিনটি আবার তার হাতে নেয়। পাশা চিন্তা করে মুন্নির কোন পা সে আগে কর্তন করবে। কিন্তু পাশা ঠিক করতে পারছে না। পাশা মুন্নিকে জিজ্ঞেস করে, ‘আচ্ছা বল তো, তোমার কোন পা আগে কর্তন করব? আমি কিন্তু ভেবে ঠিক করতে পারছি না। তুমি যদি একটু বলে দিতে তাহলে সুবিধা হতো। তোমার ডানহাতটি আগে কর্তন করেছি। কারণ সব সম্পর্ক ও শুভ কাজ ডানহাত দিয়ে শুরু হয়। যেমন ধরো, ডানহাত দিয়ে হ্যান্ডশেক করে মানুষ নতুন সম্পর্ক তৈরি করে। মানুষ কেমন এক অদ্ভুত জাতি জান, যে হাত দিয়ে চুরি করে আবার সে হাতের করমর্দনে সম্পর্ক করে। এতে সম্পর্ক ভালো হয় কি? আমি কিন্তু কোন চুরি করি না। সবসময় কাজ করে খাই। আচ্ছা ওসব বাদ দাও। তোমার কোন পা প্রথমে কর্তন করব সেটা বল।’ পাশা মুন্নির মুখের ডাক্ট টেপ খুলে নেয়। ‘দেখ কি কাণ্ড। তোমার মুখে টেপ দিয়ে তোমাকে কত কিছু বলে ফেললাম। আমার সৌজন্য বোধ বলতে কিছু থাকা উচিত।’ পাশা মুন্নিকে বলল। ‘প্লিজ আমাকে মেরে ফেলুন...’ মুন্নি পাশাকে চিৎকার করে বলল। পাশা মুন্নির মুখে আবার ডাক্ট টেপ লাগাল। ‘তোমার বুঝি এখনো কোন পরিবর্তন হয়নি। আচ্ছা ঠিক আছে, প্রথমে বাম পা কর্তন করব। দেখি এতে কী হয়।’ বলে পাশা মুন্নির বাম পা ধারালো চেইন করাতের মেশিন দিয়ে কর্তন শুরু করে। মুন্নির পায়ের হাড্ডি কর্তন করতে গিয়ে চেইন করাতটি আটকে যায়। পাশা অনেক চেষ্টা করে মুন্নির বাম পা কর্তন করতে সক্ষম হয়। পাশা মুন্নির বাম পা কর্তন করার পর তার পায়ের বাকি অংশে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেয়। যাতে মুন্নি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ করে না মারা যায়। এরপর পাশা মুন্নির চোখের সামনে তার বাম পা থেকে মাংস কেটে টুকরা করে একটি ব্যাগে রাখে। আর আরেকটি ব্যাগে পাশা অবশিষ্ট হাড্ডিগুলো রাখে। ‘আজকে আমার আজ একা একা লাগছে না। সত্যি বলছি। তোমার সাথে কথা বলতে পারছি। এতে সময় সত্যি সুন্দর যাচ্ছে। তোমার সাথে আজ ভাগ্যক্রমে দেখা হয়ে সত্যি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান ভাবছি। এরপর পাশা একইভাবে মুন্নির ডান পা কর্তন করে। মুন্নি অজ্ঞান হয়ে যায়।

তখন ভোর পাঁচটা বাজে। মুন্নির জ্ঞান তখন ফেরেনি। পাশা চিন্তিত হয়ে পড়ে। বারবার পাশার ঘুম আসছে। আজ সারারাত পাশার অনেক ব্যস্ত সময় কাটল। হঠাৎ পাশার তেষ্টা পায়। একটি পানির বোতল খুলে পাশা কিছুটা পানি পান করে। আর বাকিটা মুন্নির মুখের উপরে ছিটিয়ে দেয়। মুন্নি তার চোখ দুটি খোলে। সে দেখতে পায় পাশা তার সামনে অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। এদিকে মুন্নি তার শরীরের যন্ত্রণায় অস্থির। সে অসহায় দৃষ্টিতে পাশার দিকে চেয়ে আছে। মুন্নির দুই চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় অশ্রু ঝরছে। পাশা মুন্নির মুখ থেকে অশ্রু মুছে দিতে বলে, ‘আর একটু ধৈর্য ধর। এই তো প্রায় শেষ। সত্যি তোমাকে অনেক মিস করব। তুমি সবসময় এ হৃদয়ে থাকবে। কথা দিলাম।’ পাশা মুন্নির গালের উপরে একটি চুমো দেয়। এরপর সে তার ধারালো লম্বা ছুরিটি হাতে নেয়। কিছুক্ষণ মুন্নির দিকে চেয়ে দেখার পর পাশা সজোরে ধারালো লম্বা ছুরিটি দিয়ে মুন্নির বুকে আঘাত করে। ধীরে ধীরে মুন্নির চোখ বন্ধ হয়ে আসে।

পাশা ছুরি দিয়ে মুন্নির শরীরের ভেতর থেকে তার ফুসফুস, কলিজা এবং লিভার তুলে নেয়। সেগুলোকে পাশা টুকরা করে অন্য একটি ব্যাগে ভর্তি করে নেয়। এরপর পাশা মুন্নির বাকি শরীর থেকে মাংস নিয়ে টুকরা করে ব্যাগভর্তি করে। পাশা মুন্নির শরীর থেকে মাংস নেবার পর তার শরীরের হাড্ডি এবং মাথাকে মিট গ্রাইন্ডারে দিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করে একটি পলিথিন ব্যাগের ভেতর নেয়। পাশা তার ট্র্যাকের ভেতরটি ভালোভাবে পরিষ্কার করার পর ব্যাগটি নিয়ে গাড়ি করে ম্যানহাটনের ইস্ট রিভারের কাছে যায়। সেখানে পাশা তার ব্যাগটি খুলে ট্র্যাকে মিট গ্রাইন্ডার দিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করা মুন্নির শরীরের হাড্ডিগুলো এবং মাথাকে পানিতে মিশিয়ে দেয়। এরপর পাশা তার ট্র্যাকের কাছে আবার এসে মুন্নির কলিজা, ফুসফুস ও লিভার টুকরা করা ব্যাগটি নিয়ে বাড়ি যায়।

‘কী হয়েছে তোমার? তোমার মাথায় ও হাতে দেখি আঘাতের চিহ্ন।’ তিন্নী পাশাকে দেখার পর বলল। এই আঘাতগুলো মুন্নির সাথে ধস্তাধস্তি করতে লেগেছে। কিন্তু সেই কথা সে তিন্নীকে কিভাবে বলবে। তাই পাশা বুদ্ধি করে তিন্নীকে বলল, ‘আর বল না, ক্যাব চালানো এখন আর নিরাপদ নয়। একটা কৃষ্ণাঙ্গ যাত্রী ক্যাবের ভাড়া দেয়নি এবং যখন ভাড়ার কথা বলি তখন আমাকে কয়েকটা কিল-ঘুষি দেয়। পরে আমার কাছে যা ছিল তা-ও নিয়ে যায়।’ তিন্নী পাশার কথা শোনার পর তার মন খারাপ হয়ে যায়। সে পাশাকে এসব নিয়ে চিন্তা না করে একটু বিশ্রাম নিতে বলে। পাশা সরাসরি তার কক্ষে চলে যায়। এরপর গোসল করে সে ঘুমাতে আসে। সকাল তখন প্রায় ছয়টা বাজে। পাশাকে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে আবার কাজে বের হতে হবে। সকাল দশটা থেকে আজ তার ডেলিভারি দেবার কথা। পাশা বিছানায় কাত হবার সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়ে। তার শরীর অনেক ক্লান্ত ছিল। তাছাড়া আজ বহুদিন পর পাশার মগজের ক্ষুধা নিবারণ হয়। তাই ঘুম আসতে দেরী হয়নি।

পাশা দশটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পাশা ঠিক করে সে আজ রাতে আর ক্যাব চালাবে না। পাশা অনেক ক্লান্ত। মাংসের ডেলিভারি দিতে হবে তাই পাশা ঘুম থেকে ওঠে। তাছাড়া আজ মাংস নিয়ে সেগুলোর সাথে মুন্নির মাংস মেশাতে হবে। পাশা তার ট্র্যাক নিয়ে নিউজার্সিতে এক কসাইখানায় যায়। সেখান থেকে পরিমাণমত গরুর ও খাসির মাংস নেয়। এরপর কিছু দূর গিয়ে পাশা তার ট্র্যাকটি থামিয়ে মুন্নির মাংসের সাথে গরু ও খাসির মাংসের মিশ্রণ করে। তারপর পাশা মাংসগুলো ডেলিভারি দিতে জ্যাকসন হাইটসে যায়।

চলবে...

এসইউ/জেআইএম