মৃদুল মিত্রের ‘সিটি অব আনহ্যাপিনেস’

সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:১২ পিএম, ২৭ জুন ২০২০

এই শহরে প্রতিদিন প্রায় হাজারো মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়,
পৃথিবীর আলো দেখার আগেই
লাশ হয়ে যায় অতি দ্রুত বেড়ে ওঠা ভালোবাসা থেকে জন্মানো ভ্রুণগুলো।
যেগুলো স্থান পায় শহরের অলিগলির ডাস্টবিনে কিংবা নর্দমায়।
একদল সারমেয় আর বায়সেরা জানান দেয় এই নব্য নিষিক্ত ভ্রুণের কথা।
যা অসম, অসংলগ্ন প্রেমের কারণে জলাঞ্জলি দিতে হয় বারংবার।
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস যার ঘাড়ে রাখতে চায় ভালোবাসার মানুষগুলো,
সেই ঘাড়ে ছলচাতুরি আর মিথ্যা আশ্বাস ভর করে খুব বেশি।
সন্ধ্যায় যখন ধাত্রীদেবী প্রকৃতির উপর চাদর বিছিয়ে দেয়, সূর্যদেব যখন দূরে বসে হাতছানি দিয়ে
আহ্বান জানায় অন্ধকার পৃথিবীকে,
তখন এই শহরে জ্বলে ওঠে নিয়ন বাতির আলোগুলো।
সেই আলোতে এই শহরের মানুষগুলোর পেটে ক্ষুধার আগুন জ্বলে ওঠে দাউদাউ করে।
ছুটে চলে দূর থেকে আরও দূরে।
কখনও বা ভুলে যায় নিজের অস্তিত্বকে।
একটা দেহ বারবার বিক্রি করতে গিয়ে ক্লান্ত পতিতার মুখেও মাঝে মাঝে একমুঠো ভাত জোটে না।
তবুও তার উপার্জনে প্রায়ই ভাগ বসায় এই শহরের মানুষগুলো।
মিশরের পিরামিডের মতো শক্ত গাঁথুনিতে সাজানো স্বপ্নগুলো এখানে ভেঙে যায় কাচের দেয়ালের মতো।
এই শহরে ভোর হতে না হতেই একদল নিম্নবিত্ত কোমরে যে গামছাটা বেঁধে ছুটে চলে কাজের সন্ধানে,
সেই গামছাটাও মাঝে মাঝে ছিনিয়ে নিতে চায় বুর্জোয়া শ্রেণির মানুষেরা।
এই শহরটা সভ্যতার বিপ্লবে একটা শহর হয়েছে ঠিকই,
কিন্তু এই শহরটা ঠিক সবার জন্য হয়নি।
এই শহর কামারের কথা বলে না, এই শহর কুমারের কথা বলে না।
এই শহরে বলে না খেটে খাওয়া মানুষের কথা।
এই শহর বলে তাদের কথা; যাদের করালগ্রাসে বারবার শোষিত হয় নিম্নবিত্ত কিংবা গরিবের দল।

কবি: উপ-পরিদর্শক, স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ।

এসইউ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]