‘বেদনা যত বেশি তার ভাষা তত কম’

সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৫০ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২০

‘জীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হইলো নিজের ইচ্ছারে ঠিক করা/ আমি খুব ঘুরতে ছিলাম, বেচাইন হয়ে আন্ধার মতো বইসা ছিলাম/ একগাদা অন্ধকার নিয়া/ কিন্তু আমি আমার ইচ্ছা জানতে পারলাম/ যখন তোমার ইচ্ছা জানতে পারলাম/ আর তুমি ছাড়া অন্যসব সংযোগ বেখেয়ালি বাতাসের মতো উইড়া গেল।’

দুনিয়ায় জীবনের নোঙর ফেলা নিয়ে, তার দিক-গতি ঠিক করা নিয়ে উপরোক্ত পঙক্তিগুলো প্রায় ১৩শ বছর আগে আরবি ভাষায় রচিত। আর এর রচয়িতা মধ্যপ্রাচ্যের প্রখ্যাত সুফি কবি হযরত রাবেয়া বসরী (রহ)। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে এই নাম সুবিদিত। খোদার সত্তায় নিজেকে বিলীন করে দেওয়া এই নারীর দর্শন-চিন্তা আর তার আলাপগুলো নিয়ে লিখেছেন আরেক বিশ্বখ্যাত সুফি কবি ফরিদউদ্দীন আত্তার (রহ)।

ফার্সি ভাষায় লেখা প্রাচীন ওই গ্রন্থের পাতা বাংলাভাষায় মেলে ধরছেন কবি ও অনুবাদক হাসসান আতিক। রাবেয়া তার আলাপে কথা ও ভাবের মুক্তাদানা ছড়িয়েছেন। যেমন তিনি বলছেন— ‘ঘর চাই না, ঘরের মালিকরে চাই’, ‘মাংস কাটার ছুরি যেন প্রেমরে কাইটা না ফেলে’, ‘লোকেরা শুধু ফুলটাই দেখে গাছটা দেখে না’, ‘বেদনা যত বেশি তার ভাষা তত কম’।

শুধু রাবেয়া বসরী নয়, হাজার বছর আগের লেখা আত্তারের ওই কেতাব ‘তাজকিরাতুল আউলিয়া’ থেকে হাসসান তর্জমা করেছেন ‘সুলতানুল আরেফিন’ উপাধী পাওয়া হযরত বায়েজিদ বোস্তামীর (রহ) জীবনীও।

‘সে এক নুকতাবিহীন আলিফের মতো’ এবং ‘কিছু জিব্বা তো এমন কান যার ভাষা জানে না’ শিরোনামে রাবেয়া বসরী ও বায়েজিদ বোস্তামীকে নিয়ে রচিত গ্রন্থ দুটি নিয়ে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আলোচনা হয় ঢাকার পরীবাগে অবস্থিত সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে। প্রকাশনা সংস্থা বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি ‘রাইটার্স মিট’ নামে এই প্রোগ্রামের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে লেখকদের পাশাপাশি অংশ নেন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, চিন্তকরা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তরুণ লেখক ও দিক্ষিত পাঠকগণ।

jagonews24

এতে আলোচনা হয় সম্প্রতি বাছবিছার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি প্রকাশিত আরও কয়েকটি বই নিয়ে। তার মধ্যে রয়েছে— কবিতা বিষয়ক আলাপ নিয়ে কবি ও চিন্তক ইমরুল হাসানের ‘কবি’, খাস বাংলার ভাষা ও দর্শন নিয়ে বিপুল কর্মযজ্ঞের আয়োজক রক মনুর ‘কবুল কবুল : কবুলিয়াতের শাসন’ এবং নারী বিষয়ক আলাপ নিয়ে কবি ইব্রাকর ঝিল্লীর ‘তিনখানা নারীবাদ’।

হযরত বায়েজিদ বোস্তামী ও হযরত রাবেয়া বসরীকে নিয়ে অনূদিত গ্রন্থ দুটির অংশ বিশেষ পাঠ করে আলোচকরা বলেন, মূল ফার্সি ভাষা থেকে অনুদিত হওয়ায় বই দুটি আনকোরা হয়ে উঠেছে। অনুবাদক ছুঁতে পেরেছেন ফরিদউদ্দীন আত্তারের টোনকে, তার এরাদাকে। এছাড়া এই তর্জমায় যে কোমলতা, আদ্রতা আর সরলতার সুর দেখা যাচ্ছে, বাংলা ভাষা-সাহিত্যে এটি অবশ্যই নতুন কিছু।

উল্লেখ্য, একশ ও দেড়শ টাকা মূল্যের বই দুটি ঘরে বসে হাতে পেতে ফোন করুন— ০১৮২২৩০৯৩০৭ এই নম্বরে।

এমএসএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]