শাহনাজ নাসরীন এর কবিতা

সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৬ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২১

এক.
সে ঘুমিয়ে পড়ে ঝুড়ির ভেতর

কবিতা শোনাবে বলে সে প্রতিদিন
এক ঝুড়ি কবিতা নিয়ে আসে
কবিতারা ছড়িয়ে পড়ে আমার ঘরে সোফায় বিছানায়
এদিকে সেদিকে খুনসুটি করে
কখনও চড়ে বসে মাথায়
আমি তাদের পিছু নিই আর
তারা লুকোচুরি খেলতে শুরু করে
এ-গলি সে-গলি, জামার পকেটে হেঁটে বেড়ায়
ধৈর্য হারিয়ে চেঁচাই ধরো ধরো
আর তার জ্বরে পুড়ে যায় আমার ঠোঁট

কবিতা শোনাবে বলে সে প্রতিদিন
এক ঝুড়ি কবিতা নিয়ে আসে
কবিতা শোনাবে বলতে বলতে
সে ঘুমিয়ে পড়ে ঝুড়ির ভেতর

দুই.

মুখোশে ঢাকি জল

১.
একটা গোপন নিজস্ব দ্বীপ, নিভৃত নীলপদ্ম
একটা দুরন্ত ফড়িঙ, বিবাগী ভ্রমর
সবই ছাইচাপা দিতে হয়
বানানো ইতিহাস পড়ে পড়ে জন্ম নিতে হয় বার বার
আর সিন্ধুকে লুকানো থাকে পুরো একটা যাপন
ভান নিয়ে বাঁচা ভান নিয়ে মরা মুখোশ জীবন

২.
দেউল প্রেমে পাশাপাশি থাকার সিদ্ধান্ত
তামাদি হয়েছে কবেই
অনামিকার ভুল লুকোতে তাই
বেরিয়ে পড়ি মুখোশের খোঁজে
মুখোশে কি বিষন্নতা ঢাকে?
অন্ধ হলে কি বন্ধ হয় প্রলয়?
এই তো দেখো শান্তিময় গুহার লোভে
যতই পালাতে চাই দক্ষিণে
উত্তরের শীত তবু কামড়ে খায় হাড়
শোকের পাতা ঝরাতে ঝরাতে
ন্যাংটো হয়ে গেছি পর্ণমোচী বৃক্ষের মতো

তিন.

মাতামহীর ইশকুল

১.
সহজ সরল একটা জীবনের জন্য
কানে তুলো আর পিঠে কুলো বাঁধার পরামর্শ
দিয়েছিলেন মাতামহী

মাকেও শিখিয়েছিলেন
অন্ধ-বধির-বোবা হওয়ার গুণ
সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে

কন্যার মুখে ত্যানা গুঁজে দিয়ে
আঁতুরে বাঁধে চোখ আর কানে দেয় তুলো
আলপনা এঁকে এঁকে বেঁধে দেয় সীমা
পায়ে পায়ে হাঁটিয়ে লক্ষ্মণ রেখায়
আলপনা দেখিয়ে বলে,
সুন্দর এই পথে যায়

২.
মাতামহীর ইশকুল ঘরে
কেবল শিখেছি কুণ্ডলী পাকিয়ে, এঁকেবেঁকে
নিজেকে বাঁচানো

আপোসের পাঠ নিতে নিতে
নিভে গেছে নাভির আগুন
নির্বিবাদে বিদ্ধ করে গেছে কামুক মাতুল

জীবনের তলানিতে পৌঁছে দেখি
আপোস এক আশ্চর্য জীয়নকাঠি
এক দুই করে অর্ধশতক কেটে গেছে বেশ!

এইচআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]