শফিক রিয়ানের কবিতা: সম্পর্ক

সাহিত্য ডেস্ক
সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:২০ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২২

তোমাকে সেই প্রথম দিন থেকেই দেখে আসছি।
আনমনে, একা-একা বসে থাকতে তুমি,
কখনো-বা বেহিসেবী উদাসীনতায় হারিয়ে যেতে বেখেয়ালিভাবেই।
আমিও এক উদাস কিশোরীর চাঞ্চল্য ও লাবণ্যের সায়রে ডুবানো চোখ দেখে প্রায়শই বলে উঠতাম—
ইস! কত্তটা আকুতি দু’চোখে, কতটা মায়া!
নয়নজুড়ে লেপ্টে আছে যেন, ভালোবাসার নিগূঢ় ছায়া।

তখনো তোমার আর আমার কথা হয়নি, বসা হয়নি পাশাপাশি।
কেবলই চোখে চোখ পড়বার কালে, দু’জন লুকোচুরি খেলতাম দৃষ্টি লুকাবার বাহানায়।
সেদিন সহসাই এসে তুমি জিজ্ঞেস করলে,
‘আচ্ছা, আমাদের সম্পর্কের নাম কী?’
আমি তাজ্জব বনে যাই এমন আকস্মিক প্রশ্নে।
কিছু বলতে না গিয়েও অস্ফুটস্বরে মুখ ফসকে বেরিয়ে আসে, ‘অপ্রেম’।

এমন অপ্রত্যাশী এক উত্তর পেয়ে তুমি ফের বলেছিলে,
‘অপ্রেম আবার কেমন সম্পর্ক? হেয়ালি করছেন?’
আমি দু’চোখের পাতা বন্ধ করে নিজের মধ্যে একটা জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব এনে বললাম,
‘সম্পর্কটা তো ঠিক এখানেই জনাবা। আমরা তো এখনো ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তেই যেতে পারলাম না।
এ সম্পর্কের নাম, ‘অপ্রেম’ না হয়ে ‘প্রেম’ হয় কীভাবে বলুন?’

তুমি আবারো সামনে ঝুকে পড়া চুলগুলো পেছনের দিকে সরিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলে,
‘আপনি থেকে ই-কার সরিয়ে নিলে কী হয় বলুন তো?’
আমি বলেছিলাম, ‘আপন হয়।’
আমার উত্তর পেয়েই তুমি মুচকি হেসে বললে,
‘এবার বলুন, আপনি থেকে তুমিতে যাওয়াটা কি খুবই গুরুত্বপূর্ণ?’
আমি কোনো উত্তর না দিয়েই গণিত খাতাটা বেঞ্চের কোণে সরিয়ে রাফ কাটতে থাকলাম।
তা দেখে হয়তো তুমি মনে মনে বলেছিলে,
‘মনের কোণেও যদি অমন হিসেব-নিকেশ করা যেত!’

তোমার অকাট্য যুক্তি শুনেও নিজেকে পণ্ডিত প্রমাণ করতে সেদিন বলেছিলাম,
‘আপনার জন্য আমার ভেতর কখনো ঝড় ওঠেনি।
বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুড়ড়ে ওঠেনি কখনোই।
কিংবা স্বপ্নে কখনো আপনার সাথে দেখা হয়নি আমার।
পাশাপাশি পথ চলতে চলতে কখনো বলিনি, ‘ভালোবাসি’।
এক কাটা চামচে আমাদের কখনো খাওয়া হয়নি।
রাস্তার পাশের ফুচকার দোকানটায় টক মেশানো ফুচকা মুখে পুড়বার সময় বলিনি,
‘ঝাল লাগেনি তো?’
আমার অযত্নে গড়া শীর্ণ মুখাবয়ব দেখে আপনিও বলেননি,
‘এই যে তোমার এত বেখেয়ালিপনা, শরীর খারাপ হলে কে দায় নেবে বলো?’
আমাদের সামান্য দৃষ্টি বিনিময়ের পর্বটাকে আর যা-ই হোক, প্রেম বলতে পারি না।
ওটা মূলত অপ্রেমই হবে।’

আমার ভাবলেশহীন কথাবার্তা শুনে হয়তো অনেকটা ভগ্নহৃদয় নিয়েই
সেদিন আমার সামনে থেকে তুমি ফিরে গিয়েছিলে।
সেদিনের পর থেকে তোমার সাথে আমার আর কথা হয়নি,
কেবল ওই দু’দণ্ডের দৃষ্টি বিনিময় হতো কখনো কখনো।
তারপর হুট করে একদিন সেই যে নিখোঁজ হলে—
আর কোনো দিন তোমার খোঁজ পেলাম না।
অথচ এখন রোজ তোমার নামে আমার বুকে ঝড় ওঠে,
বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে ওঠে প্রায়শই।
কদাচিত স্বপ্নেও মেলে দেখা।
প্রতিনিয়ত পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বলতে ইচ্ছে করে, ‘ভালোবাসি’।

কিন্তু সব আজ কেমন যেন কল্পনা হয়ে যাচ্ছে—
দেখো, আজ আমি তোমাকে আপনি বলেও ডাকছি না।
ভালোবাসার গণ্ডি পেরিয়ে তোমার আর আমার সম্পর্কের নাম দিয়েছি প্রেম।
কী আশ্চর্য, এসবের কিছুই তুমি জানছো না।
কিংবা হয়তো শুনতে পাও কখনো কখনো—
যখন আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করতে করতে বলি, ‘ভালোবাসি’।

আজ আমাদের প্রেম হয়েছে,
কিন্তু তোমার-আমার দূরত্বটা বেড়ে গেছে অনেক।
আজ তুমি এতটাই দূরে চলে গেলে যে,
পুনরায় না জন্মালে আর ফিরে আসা যায় না।

এসইউ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।