Jago News logo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০১৭ | ১৬ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

রনি বর্মনের চারটি কবিতা


সাহিত্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:১৬ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:২৮ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
রনি বর্মনের চারটি কবিতা
BiskClub

কাল্পনিক চেতনার বাস্তবতা

প্রাসঙ্গিক সোনা ও দানায় পূর্ণ ছিলো আমাদের পানশালা।
খানিক তার স্বপন ছিলো, মানিক উজ্জ্বল নিখিলে।

আকাল-আকাল বলে সকাল হারালে দীনতায়
আমরা সকলেই মিলিত হই মৌনতার মিছিলে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে,
কতোটা যৌনতা বাঁচিয়ে রাখা যায়
উচ্ছন্নে তুলে রঙিন শৈশব?
সবকিছু ছেড়ে-ছুড়ে
ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে
বৃত্তের বৈভব!

তিনি বললেন, কল্পনাই প্রকৃত বাস্তবতা।
আমি দেখলাম বাস্তবতাই আমার কল্পনাগুলোকে
নিয়ন্ত্রণ করছে।

বাকির কিছুটা মামলেট পরাটা পরিকল্পিত ভোর
মহাজাগতিক চেতনায় ভেসে যায় যাপন রতির ঘোর।

ঘোর কেটে গেলে জোড় ক্রমশ হালকা হয়ে আসে।

****

বর্ষতী কদমের বসন্ত বিলাপ- দুই

জানি, আলোমতি তুমিও আজকাল- তোমার দুধে আলতা
মাখতে শিখেছ। তোমার শরীর নির্গত ঘামে মিশিয়ে রাখো
রসালো সব টক তেঁতুল আর ঝিঁঝিঁ পোকাদের বিচিত্র
আবেদন মুখরতা। তোমার তীব্র আলোর ঝলকানিতে
রঘুপতিরাও ছিটকে পড়েন ওরাং ওটাং এর ভুল পথে।
পথের মোড়ের নেড়ি কুকুরের কান্না তোমার কাছে নিরেট
ঘেউ ঘেউ। তুমি তো ব্যস্ত তোমার পোষা বিড়ালের
পায়ে ঘুঙুর পরাতে। রঙমাখা বিড়ালের
ঝুমুর নৃত্য দেখেই তোমার সময় কেটে যায় বেশ।

জানিতো, সব জানি।
এবং এও জানি-
সাজানো তোমার রক্তজবার বাগানে যে প্রজাপতি
প্রাতঃকর্মে মত্ত; দিন শেষে সেও পাখা গুটিয়ে
লুটাবে তোমারই পায়ের তলায়। অথচ,
কেবল তুমিই জানো না-
তোমার গোরখোদক ঐ ডাকবাক্সে প্রতিদিন
কতগুলো নক্ষত্ররঞ্জিত আকাশ জমা হয়!

****

নিশিগন্ধা-২

তোমার ওই ঘুমঘরের আলোসৃণতার সুগন্ধে
মোহিত থাকুক রাস্তায় জেগে থাকা জীবিত
গাছগুলোর ছায়া। তারাদের সংরক্ষিত
বোধের বাগানে উপচে উঠুক অজস্র কর্মবিরতির ঘ্রাণ।

তোমাকে আমি নিশিগন্ধা বলেই ডাকব; কেননা-
তোমার কথা মনে পড়লেই আমার ভীষণ-
আনারস খেতে ইচ্ছে করে।

****

আমার পুষে রাখা ভ্রুণ : তোমার দৃষ্টরজ পতন

অনেক তো হলো যাপিত জলে-
মাখামাখি সুখ;
ভাবছি, এবার দুঃখ বিলাসে যাব

নিধু, পালসের ছাতাটা ঠিকঠাক মেলে ধরো।
বাড়ন্ত দুপুরের অনুবাদ শেখাটা ভীষণ জরুরি

দেখেছ কেমন জন্মান্ধ মাকু (!)?
হৃদয়ে পূর্ণ শৃঙ্গারে প্রতিনিয়ত বুনে যায়
কেমন আনাড়ি স্বকাল !

আহা! কী শিল্পীত অনুমানে
সভ্য হলো আমাদের মাছ ধরা।

মাকুরা কেবলই জন্মান্ধ থেকে যায়
এপাশ-ওপাশ,
খট্টাস-খটাস...

এসইউ/জেআইএম

আপনার মন্তব্য লিখুন...