আল মাহমুদ বেঁচে থাকবেন তার কবিতায়

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৯

আল মাহমুদ বেঁচে থাকবেন তার কবিতায়। বাংলা ভাষা এবং বাংলা কবিতা যতদিন থাকবে ততদিন শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত হবে ‘সোনালী কাবিনের’ কবির নাম। কবির ৮৪তম জন্মদিনে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তার উত্তরসূরি কবিরা।

কাঁটাবনের কবিতা ক্যাফেতে এ উপলক্ষে কবিতার কাগজ ‘কবি এবং কবিতার উদ্যোগে আয়োজিত ‘আল মাহমুদ উৎসব’ এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা। প্রধান আলোচক ছিলেন কবি জাহিদুল হক। সভাপতিত্ব করেন ‘কবি এবং কবিতার সম্পাদক কবি শাহীন রেজা।

বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ এবং কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। কবি ও কণ্ঠশিল্পী পলি রহমানের কণ্ঠে কবির ‘এই শহরে একটি মেয়ে’ এবং নব্বই দশকের অন্যতম কবি কামরুজ্জামানের কণ্ঠে ‘সোনালী কাবিন’র ১ম ও ২য় কবিতা দু’টি আবৃত্তির মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজনটির সঞ্চালক ছিলেন আল মাহমুদের ঘনিষ্ঠজন তারুণ্যের কবি জাকির আবু জাফর।

তুমূল বৃষ্টিভেজা দিনে কাকভেজা হয়ে উৎসবে হাজির কবিরা কবিকে স্মরণ করেন স্মৃতিতে ও কবিতায়। স্মৃতির ঝাঁপি নিয়ে হাজির হন কবি মুজতাহিদ ফারুকী, কবি রফিক হাসান, কবি হাসান মাহমুদ, ড. ফজলুল হক তুহিন, কবির বিশেষ সহকারী কবি আবিদ আজম, বাদল চৌধুরী, সোমা খান, জান্নাতুন নেছা প্রমুখ।

নিবেদিত কবিতা এবং ছড়া পাঠ করেন কবি তারেক মাহমুদ, কবি ফরিদ ভূঁইয়া, ছড়াকার জগলুল হায়দার, মামুন সারওয়ার, তাহমিনা বেগম, শিফফাত শাহরিয়ার প্রমুখ।

কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ‘আল মাহমুদ কবিতার মানুষ ছিলেন। তার কাছে কবিতাই ছিল মুখ্য। রাজনৈতিকভাবে কেউ কেউ তাকে ব্যবহার করতে চেয়েছেন এটা সত্য তবে তিনি চিরকালই তার কবিতার আদর্শে অটুট ছিলেন। যে কবি যত বেশি আলোচনায় থাকেন তিনি তত বেশি সফল।’

কবি জাহিদুল হক বলেন, ‘বাংলা কবিতায় গ্রামীণ এবং নাগরিক চেতনার মিশেলে এক নতুন ধারা রচনা করে গেছেন আল মাহমুদ। ছন্দের চালে কীভাবে আধুনিক হৃদয়কে বশ করতে হয় তা শিখিয়ে গেছেন তিনি। তার কিশোর কবিতা আবহমান বাংলাকাশে চিরকাল শিশির হয়ে ঝরবে।’

কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ বলেন, ‘কোনো বিভাজন কবিকে স্তব্ধ করে রাখতে পারে না। একজন কবির যাত্রা কাল এবং সময়কে অতিক্রম করে এগিয়ে চলে অনন্তের পথে। আল মাহমুদ সেই যাত্রী যিনি শেষ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন তার কবিতা দিয়েই, অন্য কিছু দিয়ে নয়।’

কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ‘আল মাহমুদ সহজ সরল শব্দ এবং বাক্য দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশে তাকে নিয়ে দ্বন্দ্ব বিভাজন থাকলেও ওপার বাংলায় তিনি এককভাবে উচ্চারিত। এটাই কবি আল মাহমুদের সাফল্য।’

সভাপতির বক্তব্যে কবি শাহীন রেজা বলেন, ‘আল মাহমুদ শনাক্ত হয়েছেন তার কবিতায়। চর্যাপদের কাল থেকে প্রকৃত কবিরা যেভাবে শনাক্ত হয়ে এসেছেন কালে কালে তিনিও সেভাবেই শনাক্ত হয়েছেন এবং কালের অমর পাতায় তার কীর্তি লিপিবব্ধ হয়ে থাকবে সোনালী কালিতে এটাই বাস্তব।’

এমআরএম/পিআর