একটি ভালো বই প্রকাশ পেলেই মেলার সার্থকতা

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৮ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
লেখক, গবেষক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক

‘কর্তৃত্ববাদের সম্প্রসারণ ঘটছে বইমেলায়ও। রাষ্ট্র, সমাজের সর্বত্রই নিপীড়নের ছোবল। মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে রাষ্ট্র হানা দিচ্ছে। এরই প্রতিফলন আমরা বইমেলায় পরম্পরায় দেখতে পাচ্ছি। এমন নিয়ন্ত্রণ সমাজে গভীর ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করছে।’

বলছিলেন লেখক, গবেষক, প্রাবন্ধিক ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বইমেলা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে বইমেলার যাত্রা, তার সার্থকতা নিয়ে এখন কী বলবেন?

‘অমর একুশে বইমেলার একটি ইতিহাস আছে। বাংলাভাষার ব্যবহার আর শিল্প-সাহিত্য সমৃদ্ধ করতে এই মেলার গুরুত্ব অপরিসীম বলেই আমি মনে করি। অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে এর পরিধি-ব্যাপকতা বেড়েছে।

‘আমাদের এখানে বইয়ের বিপণন ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। আসলে দুর্বল রাষ্ট্র, সমাজ কাঠামোর মধ্যে কোনো কিছুই আর নিয়মের মধ্যে চলছে না। মেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বইয়ের বিপণনের কিছুটা সুবিধা হয়। বছরের এই সময় প্রচুর বই বিক্রি হয়। গোটা দেশের জন্য এক প্রকার আমেজের ব্যাপার। এমনকি এই মেলার আলো প্রবাসীদের কাছেও পৌঁছায়।’

‘কিন্তু মেলার আয়োজন নিয়ে আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি, প্রকাশকদের হাতে এটি ছেড়ে দেওয়া দরকার। বাংলা একাডেমি মেলার আয়োজনে থাকার কোনো দরকার নেই। বই বিক্রি ছাড়া বাংলা একাডেমির আরও বহু কাজ আছে। সেখানে তারা ব্যর্থ। গবেষণার কাজে প্রতিষ্ঠানটির কোনো নজরদারি নেই। সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেই। গোটা বছর পড়ে থাকে এই মেলার আয়োজন নেই। বইমেলা আর পুরস্কার দেওয়ার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি আটকা রইলো।’

যদি বইয়ের প্রকাশকরা স্বাধীনভাবে মেলার আয়োজন করতে পারতো, তাহলে এই সার্থকতা আরও ছড়িয়ে যেত। কারণ লেখক-প্রকাশকরা পাঠকের মন বুঝতে পারে। তারাই জানে কীভাবে বই পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব।

মেলা উপলক্ষে প্রচুর বই প্রকাশ হচ্ছে? মান নিয়ে...

‘শিল্প-সাহিত্যের মান আপনি এক কথায় প্রকাশ করতে পারবেন না। সবাই ভালো লিখবে এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। পাঠকই আসলে সাহিত্যের মান নির্ধারণ করে। যে বইটির সাহিত্য মানে ভালো, তা কোনো না কোনোভাবে পাঠকের হাতে চলে যাবেই। এর জন্য বিজ্ঞাপনের দরকার হয় না। শত বইয়ের মধ্যে একটি ভালো বই প্রকাশ পেলেই মেলার সার্থকতা।’

পাঠকের মন কেমন বুঝলেন এতদিনে?

‘পাঠকের মন বদলেছে। এক সময় গল্প-উপন্যাস ছাড়া বইয়ের বিক্রি ছিল না। লেখকরাও গল্প-উপন্যাসে মন দিয়েছিলেন। এখন গবেষণা, প্রবন্ধ ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে। এটি কিন্তু আমাদের সাহিত্যের জন্য ভালো বার্তা দিচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক গবেষণাধর্মী বইয়ের বিক্রি মানেই পাঠক সিরিয়াস বিষয়ে মন দিচ্ছে। পাঠকের রুচির ওপরই একটি সমাজের শিল্প-সাহিত্য রচিত হয় সাধারণত। জোর করে আপনি পাঠককে কিছু খাওয়াতে পারবেন না। অনেকেই এখন প্রবন্ধ লিখছেন এবং ভালোমানের বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ’

মেলার ওপর নজরদারি। বই বাজেয়াপ্ত হয়। স্টল বরাদ্দ বাতিল হয়। কী প্রতিক্রিয়া জানাবেন?

‘বইমেলা ঘিরে প্রতি বছরই এমন খবর আসছে। বইয়ের ওপর রাষ্ট্রের নজরদারি মানেই সর্বনাশ ডেকে আনা। পাঠক বা লেখকের স্বাধীনতাকে আপনি রোধ করবেন কেন? লেখকের কোনো সীমানা থাকতে পারে না। পাঠকেরও না। রাষ্ট্রের এমন নজরদারি ভালো ফল বয়ে আনছে না। লেখকরা নিজে থেকেই সেন্সরশিপ আরোপ করে নিচ্ছে। লেখক-পাঠকের মনের ওপর আপনি নজরদারি করবেন কেন? পাঠক ইচ্ছামতো গ্রহণ করবে। যেটি ভালো লাগবে না, পাঠক সেটি কিনবে না।

এএসএস/জেআইএম

বাংলা একাডেমি মেলার আয়োজনে থাকার কোনো দরকার নেই। বই বিক্রি ছাড়া বাংলা একাডেমির আরও বহু কাজ আছে। সেখানে তারা ব্যর্থ। গবেষণার কাজে প্রতিষ্ঠানটির কোনো নজরদারি নেই। বইমেলা আর পুরস্কার দেওয়ার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি আটকা রইলো।

পাঠকের মন বদলেছে। এক সময় গল্প-উপন্যাস ছাড়া বইয়ের বিক্রি ছিল না। লেখকরাও গল্প-উপন্যাসে মন দিয়েছিলেন। এখন গবেষণা, প্রবন্ধ ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে। এটি কিন্তু আমাদের সাহিত্যের জন্য ভালো বার্তা দিচ্ছে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।