EN
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

বিশ্বে প্রথম গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সফল রাবির গবেষকরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | রাবি | প্রকাশিত: ০৫:৩২ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

‘প্রকৃতির মুক্তা’খ্যাত গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা দাবি করছেন, তারাই বিশ্বে প্রথম গেছো শামুকের কৃত্রিম প্রজনন করতে সক্ষম হলেন। এতে বিলুপ্তির পথে থাকা এ শামুক সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এ বছরের মার্চে শামুকটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার শোভনের হাত ধরে।

গবেষক ও গবেষণা সহকারী মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হিল কাফি ও রুপময় তংচঙ্গা নামের দুই শিক্ষার্থী রাজশাহী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুটি জায়গা থেকে দুটি গেছো শামুক সংগ্রহ করেন। গবেষণা শুরুর ৯ মাসের পরিশ্রমে এ সফলতা অর্জন হলো বলে জানান অধ্যাপক শোভন।

শামুকটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর শামুকটি দিয়ে প্রজনন সফলতা পাওয়া গেছে। পাঁচটি বাচ্চা পেয়েছি আমরা। শামুকটির আদি নিবাস আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। এটি লিগ্যাস প্রজাতির হতে পারে বলে ধারণা করছি।’

অধ্যাপক শোভন বলেন, ‘এর আগে দেশি শামুকের বিষয়ে একটি সার্ভে করেছি। সেখানে দেখতে পেয়েছি, এই গেছো শামুক খুবই দুর্লভ প্রকৃতির। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের কিছু জায়গায় আছে। দু’বছর ধরে খুঁজছিলাম; তবে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খুঁজে অবশেষে পেয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে এই শামুকগুলো।’

দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০১৮ থেকে কাজ করে যাচ্ছে প্রকল্পটি। এরই অংশ হিসেবে এই শামুক সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছেন অধ্যাপক শোভন ও তার গবেষক দল। এ গবেষণা কাজে সহযোগিতা করেন কয়েকজন জাপানি গবেষক।

এই শামুক সংরক্ষণে কী প্রয়োজন রয়েছে এবং এতে কী উপকার পাওয়া যাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে গবেষক শোভন বলেন, ‘উদ্ভিদের গায়ে কিছু ক্ষতিকর অণুজীব লেগে থাকে। সেগুলো খেয়ে উদ্ভিদকে রক্ষা করে এই শামুক।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে ডেভিসসিসকো নামের একজন গবেষক সাধারণ শামুকের কৃত্রিম প্রজননে সফলতা পান।

সালমান শাকিল/এসআর/এমকেএইচ