যুবলীগের দুই কর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন চেয়ারম্যানের জামাই

উপজেলা প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯
যুবলীগের দুই কর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন চেয়ারম্যানের জামাই

সাভারের আশুলিয়ায় ফেস্টুন সরিয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে দুই যুবলীগ কর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জামাতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত যুবলীগ কর্মী রিপন মিয়া ও বাবু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় শনিবার আশুলিয়া থানায় ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জামাতা রুবেল আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী রিপন মিয়ার স্ত্রী চায়না বেগম। এর আগে ভোর রাত ৩টার দিকে আশুলিয়ার বেরন এলাকার ক্রিয়েশন গার্মেন্টসের সামনে হামলার
এ ঘটনা ঘটে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহম্মেদ ভূইয়ার মেয়ের জামাই রুবেল আহম্মেদ (৩৮), জামগড়া ভূইয়াপাড়া এলাকার ঝুড়ো ভূইয়ার ছেলে উজ্জল ভূইয়া (৩৬), জসিম উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হক ইমু (২২), জালাল মোল্লার ছেলে ময়না মোল্লা (৩৫), মো. সম্রাট (৩০), তমিজ মীরের ছেলে সুমন মীরসহ (২৮) অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, অভিযুক্তরা আশুলিয়া থানা যুবলীগের ব্যানারে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানী করে আসছিলো। এ ঘটনায় থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি অপপ্রচারে ব্যবহৃত ব্যানার ফেস্টুন খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই মোতাবেক শুক্রবার রাতে যুবলীগ কর্মী রিপন মিয়া, ফারুক, শিপু, রিপন, বাবু ও নয়ন শুক্রবার রাতে ইয়ারপুর ও জামগড়া এলাকায় অপপ্রচারে ব্যবহৃত ব্যানার ফেস্টুন খুলে পিকআপ গাড়িতে করে জামগড়া হইতে নরসিংহপুরের দিকে যাচ্ছিলো।

বিষয়টি জানতে পেরে রাত তিনটার দিকে অপপ্রচারকারী ঝুট ব্যবসায়ী রুবেল আহম্মেদ ও তার বাহিনীর লোকজন যুবলীগ কর্মীদের গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদেরকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত যুবলীগ কর্মী রিপন মিয়ার স্ত্রী বলেন, শুক্রবার রাতে ঝুট ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রুবেল আহম্মেদ ভূইয়া আমার স্বামী রিপনকে রামদা দিয়ে কোপ দিলে তার মাথা কেটে মগজ বের হয়ে আসে। এসময় রুবেল আহম্মেদ ভূইয়া তাকে ধরলে উজ্জল ভূইয়া তাকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।

এছাড়া ময়না মোল্লা নামে আরেকজন রিপনের সঙ্গী বাবুকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ও অন্যদেরকে রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রিপন মিয়া ও বাবুকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রুবেল আহম্মমেদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক ও বানোয়াট।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার জাগো নিউজকে বলেন, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তাদের অপপ্রচারের বিষয়ে আশুলিয়া থানা যুবলীগের সদস্য ও শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আমির হোসেন জয় আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

আশুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, যুবলীগ কর্মীদের মারধরের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং মামলার দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও রুবেল আহম্মেদ ভূইয়ার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতার ঝুটের ট্রাক ছিনতাই, মারধর, চাঁদাবাজিসহ আশুলিয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

আল- মামুন/এমএএস/পিআর

সর্বশেষ - দেশজুড়ে

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়