শ্যালককে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রেখেছিলেন মারুফ

জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ০৯:৫০ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
শ্যালককে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রেখেছিলেন মারুফ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মো. হাসীব নামের চার বছরের এক শিশুকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার দুলাভাই মারুফ খানের (২৬) বিরুদ্ধে। নিখোঁজের তিন দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি সংলগ্ন একটি ডোবার মাটি সরিয়ে হাসীবের মরদেহ উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ তেওয়ারীপুর গ্রামে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মারুফকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। তার বাড়ি ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার বটতলা এলাকায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত মারুফ খান উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তেওয়ারীপুর গ্রামের দিনমজুর হাবিবুর রহমানের মেয়ে রিমা আক্তারে স্বামী। রিমা আক্তার ঢাকায় একটি পোশাক করখানায় চাকরি করেন। বিয়ের পর থেকে মাদকাসক্ত মারুফ বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীকে টাকার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিছুদিন আগে মারুফ তার মায়ের সহায়তায় স্ত্রীর কাছ থেকে জোরপূর্বক ব্যাংক থেকে ৭৫ হাজার টাকা তুলে নেন। পরবর্তীতে শ্বশুরের ঘর থেকে সুটকেস কেটে নগদ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যান।

গত সোমবার মারুফ শ্বশুর বাড়িতে এসে অটোরিকশা কেনার টাকা চেয়ে পুনরায় চাপ প্রয়োগ করে। এতে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আপত্তি জানায়। পরে তিনি তার ছোট শ্যালক হাসীবকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বের হন। কিন্তু মারুফ শ্বশুর বাড়ি ফিরে আসলেও হাসীব ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয় এবং তাকে আটকে রাখে। সংবাদ পেয়ে বুধবার রাতে মারুফের চাচা বেশ কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিতে এলে স্থানীয়রা মারুফকে ভাণ্ডারিয়া থানায় সোপর্দ করে।

পরে হাসীবের বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হাসীবকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের ডোবা থেকে হাসীবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাকসুদুর রহমান জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মাহামুদুর রহমান মাসুদ/এমবিআর/পিআর

সর্বশেষ - দেশজুড়ে

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়