EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৮৫ দিন কারাগারে কাটিয়ে ‘বিশ্রাম’ দাবি মালির

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী | প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২০

হত্যা মামলায় টানা ৮৫ দিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কাটিয়েছেন রাজশাহী সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মালি সুজন আল হাসান। কিন্তু এই ৮৫ দিন তিনি বিশ্রামে ছিলেন বলে দাবি করেছেন। এ নিয়ে চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্রও জমা দিয়েছেন সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৯ সালের ৭ জুলাই নগরীর ভুগরইল পশ্চিমপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে প্রতিবেশীদের নৃশংস হামলার শিকার হন আবদুল হান্নান ও তার ছেলে সেলিম রেজা। এর তিনদিন পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সেলিম।

এই ঘটনায় ওই দিনই ২১ জনকে আসামি করে শাহমখদুম থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আবদুল হান্নান। মামলায় ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সুজন আল হাসান। মামলার অন্য আসামিরা তার ভাই, নিকট আত্মীয় ও সহযোগী।

গত বছরের ২২ অক্টোবর মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন সুজন। পরে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন। দীর্ঘ ৮৫দিন কারাগারে কাটিয়ে এই বছরের ১৬ জানুয়ারি ছাড়া পান সুজন।

অভিযুক্ত সুজন আল হাসান রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানার ভুগরইল পশ্চিমপাড়া এলাকার নওশাদ আলীর ছেলে। ২০১০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে মালি হিসেবে সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত তিনি। কারাগারে কাটানো দিনগুলো ছুটি দেখিয়ে পার পেয়েছেন সুজন। জামিনে থাকায় এখন নিয়মিত অফিস করছেন। তবে এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। পরে দলবল নিয়ে মামলার বাদীর বাড়িতে হামলা চালান সুজন।

সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তৌহিদ আরা জানান, তিনি বিষয়টি টের পাননি। কারাবন্দি থাকার বিষয়টি জানাননি সুজন। জানতে পেরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। সেটির জবাবও দিয়েছেন সুজন।

গত ৫ অক্টোবর সুজন আল হাসান প্রধান শিক্ষকের নোটিশের জবাব দিয়েছেন। সঙ্গে জুড়েছেন রাজশাহী মডেল হাসপাতালের কনসালটিং ফিজিশিয়ান ডা. এবিএম কামরুল আই সরকারের প্রত্যয়নপত্র।

তিনি দাবি করেছেন, মেরুদণ্ড ও মাজায় ব্যথাজনিত কারণে তিনি রাজশাহীর ওই বেসরকারি হাসপাতালটিতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে টেস্ট করিয়ে রিপোর্ট অনুযায়ী তাকে চিকিৎসক দুই মাস বিশ্রামের পরামর্শ দেন।

তবে সুজন আল হাসানের এমন অসুস্থতার বিষয়টি জানাতে পারেননি তার সহকর্মীরা। নাম প্রকাশ না করে পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী জানান, আগে কখনোই তার মেরুদণ্ড ও মাজায় ব্যথাজনিত সমস্যার কথা শোনা যায়নি। কিন্তু তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে এই সমস্যার কথা প্রচার করছেন।

এদিকে সুজন আল হাসানকে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ফিজিশিয়ান ডা. এবিএম কামরুল আই সরকার।

তিনি জানিয়েছেন, তার কাছে সুজন আল হাসানের স্ত্রী এসেছিলেন। ওই সময় সুজন যে কারাগারে ছিলেন তা তিনি জানাননি। জানিয়েছিলেন, তার স্বামীর শারীরিক অবস্থা খারাপ। পরে তাকে একটি চিকিৎসা ফরম সরবরাহ করা হয়। তিনি সেটা পূরণ করে দেন। পরে সেই ফরম অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্রসহ দুই মাস বিশ্রামের পরামর্শ দেয়া হয়। যাচাই না করে কারাবন্দিকে প্রত্যয়ন দিয়ে ভুল করেছেন বলে স্বীকার করেন এই চিকিৎসক।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. গিয়াস উদ্দীন বলেন, তার (সুজন আল হাসান) কারাগারে আগমন ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর। তিনি কারামুক্ত হন ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি। এ সময়ের মধ্যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। জেল হাসপাতালে কখনই ছিলেন না। বেসরকারি হাসপাতালে নয়, অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসায় হয় কারাবিধি মেনে সরকারি হাসপাতালে।

জেল সুপার আরও বলেন, কারাগারে সাক্ষাতে আসা ব্যক্তিদের এক টুকরো কাগজ এপার-ওপার করার ক্ষমতা নেই। সেখানে বাইরের মেডিকেল ফরম, অফিসিয়াল নোটিশ, ছুটির দরখাস্ত বা কোনো কাগজপত্র সই করে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। যে কোনো প্রকারের কাগজ সংক্রান্ত কাজ থাকলে উকিল মারফত পাঠাতে হবে, অন্যথায় সম্ভব নয়।

ভুয়া চিকিৎসা সনদ ও ব্যবস্থাপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে মালি সুজন আল হাসান বলেন, আমি অসুস্থ ছিলাম। তবে কোনো হাসপাতালে, কখন চিকিৎসা নিয়েছি তা মনে নেই। কাগজপত্র দেখে জানাতে হবে।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/আরএআর/এমকেএইচ