অভিবাসন ও বিমান-সমুদ্রবন্দর সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট জাপান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১০:২৩ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
অভিবাসন ও বিমান-সমুদ্রবন্দর সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট জাপান

বাংলাদেশের বিমানবন্দরে বিদেশি যাত্রীদের অভিবাসন সেবা, বিমান ও সমুদ্রবন্দরে পণ্য খালাস নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাপানি ব্যবসায়ীরা। বিমানবন্দরে অভিবাসন কাজে অতিরিক্ত সময় লাগাসহ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিমান ও সমুদ্রবন্দরে বাংলাদেশের অবস্থান সবার পেছনে। এই বিষয়গুলোর কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ পান না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতোর নেতৃত্বে দেশটির ব্যবসায়ীদের শীর্ষ পর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জাপানি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে এসে যেসব সমস্যার মুখোমুখী হচ্ছেন, সেগুলো তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রীর কাছে জাপানি ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে বৈঠক সূত্র জানায়, গত বছর জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) আহ্বানে প্রায় ১ হাজার জাপানি ব্যবসায়ী বাংলাদেশে আসেন। এই ব্যবসায়ীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, বিমানবন্দরে অভিবাসন কাজ সম্পন্ন করতে তাদের অনেক সময় লেগেছে। যেখানে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কম্বোডিয়ার ফনম পেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পাস নিতে প্রতি জনে এক মিনিটেরও কম সময় লাগে।

জাপানের প্রতিনিধিরা আরও জানান, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যারাইভাল (আগমন) ভিসা পেতে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়।

এ সময় অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিদেশিদের আগমনের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন পরিচালনার উন্নয়ন করার জন্য আহ্বান জানান এই জাপানি ব্যবসায়ীরা।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, জাপানিদের অভিযোগ বাংলাদেশের বিমান ও সমুদ্রবন্দরে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স নিতে প্রচুর সময় লাগে। জেট্রোর সার্ভে অনুযায়ী, বিমান ও সমুদ্রবন্দরে পণ্য আসার পর থেকে খালাস পেতে এশিয়া প্যাসিফিক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার পেছনে। সমুদ্রবন্দরে গড়ে ১৬ দিন এবং বিমানবন্দরে লাগে ৮ দিন।

জেট্রোর জরিপ তুলে ধরে তারা জানায়, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সমুদ্রবন্দরগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামে গড়ে ৭ দিন, থাইল্যান্ডে ৭ দশমিক ৩ দিন, ইন্দোনেশিয়ায় ৯ দশমিক ১ দিন, ফিলিপাইনে ১০ দশমিক ৩ দিন, ভারতে ১২ দিন, মিয়ানমারে ১৩ দশমিক ৩ দিন, কম্বোডিয়ায় ১৩ দশমিক ৩ দিন এবং বাংলাদেশে ১৫ দশমিক ৮ দিন সময় লাগে লাগে পণ্য খালাস হতে।

আর বিমানবন্দরে পণ্য খালাস করতে থাইল্যান্ডে গড়ে ২ দশমিক ৭ দিন, ভিয়েতনামে ৩ দিন, কম্বোডিয়ায় ৩ দশমিক ৬ দিন, ফিলিপাইনে ৩ দশমিক ৮ দিন, ইন্দোনেশিয়ায় ৪ দশমিক ৪ দিন, ভারতে ৪ দশমিক ৬ দিন, মিয়ানমারে ৫ দিন এবং বাংলাদেশে ৭ দশমিক ৯ দিন সময় লাগে।

বৈঠকে জাপান কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন ঢাকা তাদের ফরেন রেমিট্যান্স, ফরেন লোন, রয়ালটি রেমিটেন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে; সুমিত্র করপোরেশন, মারুবেনি, নিপ্পন সিগনাল ও অন্য কোম্পানিগুলো ট্যাক্স কমপ্লেশন নিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে; টেক্কেন করপোরেশন আইটি, ভ্যাট হার পরিবর্তন, ডাবল ট্যাক্সেশন ইস্যু, নতুন ভ্যাট আইন ২০১২ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে; রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের কোম্পানিগুলোর জন্য বন্ড লাইসেন্স বাতিল করতে বেপজা ও এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করে জেট্রো; এলপিজি ইন্ডাস্ট্রিজে ভ্যাট বিষয়ে ওমেরা গ্রাস ওয়ানের প্রতিনিধিরা কথা বলেন।

আর বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে বিমান ও সমুদ্রবন্দর নিয়ে জেট্রো, ইপিজেটের ভেতরে ও বাইরে মজুর বৈষম্য নিয়ে মারুহিসা, বাধ্যতামূলক মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে ক্যাট গার্মেন্ট, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন নিয়ে হুন্ডা, ইপিজেটে কন্টেইনারের ব্যবহার নিয়ে টিএস টেক, নিট্টসু’র প্রতিনিধিরা কথা বলেন বলেও সভা সূত্র জানায়।

এ সময় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, ব্যবসার ক্ষেত্রে জাপানি ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।

জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো আশা করেন, সভায় কার্যকর আলোচনা হয়েছে। তাদের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে ব্যবসার করতে যেসব সমস্যা হচ্ছে, সেগুলোর সমাধান হবে।

সভায় এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আশাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল ও মনিরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পিডি/এমএসএইচ

সর্বশেষ - অর্থনীতি

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়