EN
  1. Home/
  2. শিক্ষা

রাবির ভিসি-প্রোভিসির দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:৩৪ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২০

অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৭৩৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে ইউজিসির তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তদন্ত কমিটির একাধিক সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে সুপারিশসহ ৭৩৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এতে ৩৬ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদন এবং ৭০০ পৃষ্ঠার সংযোজনী প্রতিবেদন রয়েছে। প্রতিবেদনে উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুল বারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল সকলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছেন তারা।

ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইউজিসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে ইউজিসি।

তদন্তে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যদের বিরুদ্ধে ২৫টি অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। এরমধ্যে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণে রাষ্ট্রপতিকে (আচার্য) অসত্য তথ্য প্রদান, শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা শিথিল করে নিজের মেয়ে এবং জামাতাকে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে ৩৪ জন অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি ১৮ মাস ধরে নানা অযুহাতে দখলে রাখেন। উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ টাকা আদায়ের সুপারিশ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।

তদন্ত প্রতিবেদনে রাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুল বারীকে অপসারণের সুপারিশ করে বলা হয়, তদন্ত কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে রেজিস্ট্রার তদন্ত কমিটিকে অসহযোগিতা করেছেন। তাই দ্রুত পদ থেকে অপসারণ করে শাস্তি দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে ইউজিসির তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দিয়েছে। তদন্তে আমরা রাবি প্রশাসনের বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দফতর এসব বিবেচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) দাখিল করেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ।

পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগগুলো তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে ইউজিসি। কমিটিতে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগমকে আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরকে সদস্য করা হয়। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করে।

এমএইচএম/এনএফ/পিআর