ভিডিও EN
  1. Home/
  2. বিনোদন

শিল্পী সমিতি ছাড়া কোথাও নেই নায়করাজ!

মইনুল ইসলাম | প্রকাশিত: ০২:৩০ পিএম, ২১ আগস্ট ২০২১

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে এই কীর্তিমান অভিনেতাকে স্মরণ করা হচ্ছে।

নায়করাজকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন তার ভক্ত। অল্প ক’জন সহকর্মীদের স্মৃতিচারণেও আছেন নায়করাজ।

তবে অবাক করা ব্যাপার হলো এদেশের অভিনয়ের মহাতারকা রাজ্জাককে নিয়ে কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠনেই নেই কোনো আয়োজন। তার প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতেও বলা চলে উপেক্ষিত তিনি।

শিল্পী সমিতি না থাকলে হয়তো এফডিসিতে ঢুকে বোঝাই যেত না যে আজ দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র তারকার মৃত্যুবার্ষিকী।

মাত্র চার বছরেই যেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় আঙিনায় ম্লান হয়ে গেলেন রাজ্জাক!

স্বস্তি শুধু এই, শিল্পী সমিতি আয়োজন করেই স্মরণ করছে তাদের সাবেক নেতাকে, অভিভাবককে, গুণী অগ্রজকে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান জানান, আজ নায়করাজ স্মরণে দোয়া মাহফিলে আয়োজন করা হয়েছে। দিনভর কোরআন খতম চলছে। ইচ্ছে থাকলেও করোনার কারণে কোনো ধরনের সভার ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে সমিতির সদস্যরা আসবেন। প্রিয় নায়ক ও অভিভাবকের জন্য তারা দোয়ায় অংশ নেবেন। সমিতির সদস্যরা বনানীতে নায়করাজের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাও জানাবেন।

জায়েদ বলেন, ‘নায়করাজ আমাদের প্রাণের মানুষ। আমাদের অভিভাবক। তাকে ধারণ না করে চলচ্চিত্রে কাজ করা যায় না, চলচ্চিত্রকর্মী হিসেবে নিজেকে দাবি করা যায় না। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক কিছু করার আছে। কিন্তু আমার খুব খারাপ লাগে যখন এমন একজন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে সবাইকে চুপ থাকতে দেখি। আমার মাকে আজ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার ডেট ছিলো।

সেটা রেখে সেই সকাল থেকে এফডিসিতে এসেছি শুধু নায়করাজকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। দিনভর অনেক আয়োজন রেখেছি। আসলে রাজ্জাক স্যার আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পীদের অগ্রজ। আমরা তাকে সবসময় শ্রদ্ধায় স্মরণ করে যাবো।’

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এফডিসি থেকেও কোনো আয়োজন নেই রাজ্জাকের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে। শনিবার এফডিসির কর্মকর্তাদের সাপ্তাহিক ছুটি। এমনিতেই সব বন্ধ। তবু মনের খটকা দূর করতে বিএফডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘কোনো আয়োজন এফডিসির পক্ষ থেকে করা হয়নি। এই বিষয়গুলো এফডিসিতে সমিতি আছে, তারাই করে থাকে।’

এদিকে পরিচালক সমিতিতে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল, তারাও কোনো আয়োজনই করেনি নায়করাজকে নিয়ে। কারণ কি করোনাকালীন সংকট না অন্য কিছু? উত্তরটা পাওয়া গেল সমিতির উপ মহাসচিব কবিরুল ইসলাম রানার কাছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি বছরের রোজার সময় একসঙ্গে সবার জন্য দোয়া করি। সেজন্য মিলাদ মাহফিল থাকে। আলাদা করে কোনো আয়োজন করা হয় না।’

ঢালিউডের নায়করাজকেও আর সবার সঙ্গে এক কাতারে নামিয়ে এনে তাই তাকে নিয়ে কোনো বিশেষ আয়োজন করেনি পরিচালক সমিতি! অথচ নায়ক রাজ্জাক একজন চলচ্চিত্র পরিচালকও ছিলেন।

প্রযোজক সমিতিতেও খোঁজ নিয়ে দেখা গেল নায়ক রাজ্জাককে নিয়ে নেই কোনো আয়োজন। সমিতির সদস্য ছিলেন এমন বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্যই নিশ্চিত হওয়া গেল। এ প্রসঙ্গে জানতে প্রযোজকদের নেতা খোরশেদ আলম খসরুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘নায়করাজকে নিয়ে কোনো আয়োজন নেই প্রযোজক সমিতিতে, এটা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

গেল বছর করোনার মধ্যেও আমরা রাজ্জাক সাহেব স্মরণে কিছু আয়োজন করেছিলাম। অনেক গুণী ব্যক্তিরা সেখানে এসেছিলেন। নায়করাজকে নিয়ে জানা অজানা অনেক কথা বলেছিলেন। কিন্তু এবার প্রযোজক সমিতির দায়িত্বে আমরা কেউ নেই। সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তিনি একজন আমলা। নায়করাজ নিয়ে এ নিরবতা আমরা কেউই প্রত্যাশা করি না। আমাদের একজনই নায়করাজ। তার প্রতিটি পদপেক্ষ আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং গর্বের। এটা উপলব্দি করা জরুরি।’

২০১৭ সালের ২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন নায়করাজ। ফুসফুসের অসুখসহ বার্ধক্যজনিত রোগে অনেকদিন ধরেই ভুগছিলেন তিনি।

এমআই/এলএ/এএসএম

আরও পড়ুন