ভিডিও EN
  1. Home/
  2. বিনোদন

পুরস্কারের জন্য কাজী হায়াতের সিনেমা করতে চেয়েছিলেন সালমান শাহ

মইনুল ইসলাম | প্রকাশিত: ০৪:০৩ এএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

অমর নায়ক সালমান শাহ। আজ তার ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। পৃথিবী থেকে অকালে বিদায় নেয়ার এতগুলো বছর পেরিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে আজও সজীব হয়ে আছেন সালমান। তার অভিনয়, নাচ, স্টাইল আজও এদেশের তারকাদের কাছেও আদর্শ।

অল্প দিনের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমা করেছিলেন। যার বেশিরভাগই ছিলো সুপারহিট। সমকালীন সেরা নির্মাতাদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই নির্মাতারা আজও মুগ্ধ হয়ে করেন
ঢালিউডের ইতিহাসে সেরা রোমান্টিক নায়ক সালমান শাহের গল্প।

তবে সালমানকে নিয়ে কোনো সিনেমা করা হয়নি কাজী হায়াতের। এজন্য খানিকটা আফসোস করেন এ পরিচালক। তার চোখে সালমান ছিলেন অদম্য এক তরুণ। মেধা আর সৌন্দর্যের সমন্বয় দিয়ে যিনি আদর্শ নায়ক হয়ে উঠেছিলেন।

আজ সালমানের মৃত্যুদিনে কাজী হায়াত জানালেন সালমানকে নিয়ে অজানা কিছু কথ। জাগো নিউজের সঙ্গে ফোন আড্ডায় তিনি বলেন, ‘‘সালমান শাহকে নিয়ে আমার কাজ করা হয়নি। কে জানতো এতো অল্প সময়ে হারাতে হবে তাকে। ইচ্ছে তো ছিলো। তারও অনেক ইচ্ছে ছিলো আমার সিনেমায় অভিনয় করার।

একটা ঘটনা খুব মনে পড়ে। একদিন শুটিং করছি একটা সিনেমার। সেও আশপাশে ছিলো। খুবই মজার ছেলে। দুষ্টুমিও করতো। আমার সেটে আসলো। খোঁজ খবর নিলো। হঠাৎ কানের কাছে এসে বললো, ‘একটা কথা বলতে চাই, যদি কিছু মনে না করেন।’ আমি বললাম, ‘বলো। এখানে মনে করার কি আছে। তুমি আর আমি একই পরিবারে মানুষ। কথা হবে এইটা তো হওয়ার কথা।’

সালমান বললো, ‘অনেক ছবি তো করছি। একটা জাতীয় পুরস্কার দরকার। সবাই বলছে আপানার সাথে কাজ করতে পারলে আমি পুরস্কার পেয়েও যেতে পারি। যদি কোনো সুযোগ থাকে আমাকে নেয়ার, জানাবেন। একটা কাজ তো আমরা একসঙ্গে করতেই পারি।’ এটা ছিলো আমরা সঙ্গে তার শেষ কথা। আমি ভাবতে শুরু করেছিলোম তাকে নিয়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, কয়েক মাস পরই মারা গেলো সালমান শাহ।’’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই নির্মাতা সালমান শাহকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আরও বলেন, ‘সালমান যখন সিনেমায় আসে তখন ভালো ভালো এবং দূরদর্শীসম্পন্ন পরিচালক ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে। তারা বুঝতে পারতেন কাকে দিয়ে কি হবে। সেসময় অনেকেই অনেক নতুন ছেলেকে সিনেমায় নিয়ে আসতেন। তারা জানতেন এই ছেলেকে আনলে ভালো কিছু করবে।

যেমন আমাদের নায়ক সালমান শাহ। এসেই বাজিমাত করে দিলো। সে তো ভালো এবং ব্যবসা সফল সিনেমা করে যাচ্ছিলো। একের পর এক, প্রায় সবগুলো সিনেমা ব্যবসা সফল। কারণ তার নিজের একটা ইমেজ তৈরি করে ফেলেছিল দর্শকের কাছে। দর্শক তার নতুন সিনেমার অপেক্ষায় থাকতো।’

‘সালমান মারা যাওয়া পর একটা বিষয় লক্ষ করলাম, হঠাৎ করে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রেমের সিনেমা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে লাগলো। অনেক প্রযোজকই প্রেমের সিনেমায় টাকা লগ্নি করতে চাইতেন না। ভয় ছিলো। সালমানের মতো করে না পারলে দর্শক গ্রহণ করবে কি না। নানা ভাবনা। কাকে নায়ক হিসেবে নিলে আবার রোমান্টিক সিনেমারা ধারাটা আগের মতো চলতে পারে।

এই ভাবনা থেকেই কিন্তু অনেক নতুন নায়কের আগমন ঘটলো। অনেকে আবার অ্যাকশন ধারা ছেড়ে রোমান্টিকতায় এলো। কিন্তু সালমানের স্থান নিতে পারলো না কেউ। এখন দর্শক সালমান শাহকে চায়, এটা অবিশ্বাস্য। সম্ভবত পৃথিবীর সিনেমার ইতিহাসে এমন ক্রেজ বিরল। সালমানের পুরনো সিনেমাগুলো দেখতে চায় দর্শক। শুনেছি সেগুলো হলে মুক্তি পেলেও এখনকার নায়কদের চেয়ে ভালো চলে।

কয়েক বছর আগে দেখলাম সিনেমা হলে সালমানের সিনেমা নিয়ে একটা উৎসব হয়েছে। সেখানে দর্শক ছিলো চমকে যাওয়ার মতো। এর আগে কোনো নায়কের সিনেমা নিয়ে এমন উৎসব হয়েছে কি না আমার জানা নাই। ওকে নিয়ে হলো। কেন? ক্রেজ, আবেদন, নায়ক হিসেবে আর সবার চেয়ে আলাদা হতে পেরেছিলো সে। তাই এতো বছর পরও বেঁচে আছে আমাদের সবার মাঝে, আমাদের সিনেমায়, দর্শকের অন্তরে’- যোগ করেন কাজী হায়াত।

এমআই/এলএ/এসআর