EN
  1. Home/
  2. স্বাস্থ্য

বিএসএমএমইউতে গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২১

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল শুক্রবার (৩০ এপ্রিল)। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও ভার্চুয়্যাল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ব্লকের সামনে গোলচত্ত্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। পরে উপাচার্য়ের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে শহীদ ডা. মিল্টন হলে ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় মন্ত্রী বিএসএমএমইউয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমে মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন।

জাহিদ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাসেবায় মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। করোনাকালীন এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা টেস্ট, রোগীর সেবা ও টিকাদানে ভূমিকা রেখে চলছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় লকডাউন একমাত্র সমাধান নয়। এটা স্বল্পতম সময়ের জন্য প্রযোজ্য। লকডাউনে মানুষের নানা সমস্যা হয়। করোনা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি উপায়সমূহ নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ সকল ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে করোনা থেকে মুক্তির দীর্ঘতম সমাধানের উপায়সমূহ খুঁজে বের করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও অগ্রগতি ছাড়া কোনো কিছুরই উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নে আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। উদ্বোধকের বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দেশে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে উঠেছে। আগামী দিনে শুধু দেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণায় সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই এ দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন হয়। ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪তম প্রতিষ্ঠা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার, যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করব। বিশ্ব দরবারে চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণার মানদণ্ডে রোল মডেলে পরিণত করতে এখানে কর্মরত সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। চিকিৎসার জন্য রোগীদের যাতে দেশের বাইরে যেতে না হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার সব ধরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সভায় ভার্চুয়ালি বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম. ইকবাল আর্সলান, মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোগীদের জন্য উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

এমইউ/এএএইচ/জেআইএম