EN
  1. Home/
  2. স্বাস্থ্য

রোগীদের সেবায় বেশি করে আত্মনিয়োগ করুন : বিএসএমএমইউ উপাচার্য

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ১৪ জুন ২০২১

দেশের চিকিৎসক সমাজকে আরও বেশি করে রোগীদের সেবায় আত্মনিয়োগ করার এবং সকল সুস্থ মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্তদানেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, রক্তদানের মাধ্যমে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না বরং শরীরের ইমিউনিটি বৃদ্ধি পায়। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, একজন ডাক্তার তৈরি করতে জনগণের অনেক টাকা খরচ হয়। বঙ্গবন্ধু চিকিৎসকদের জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করায় আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সোমবার বিএসএমএমইউ ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২১’ উদযাপিত হয়েছে। সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য। এ সময় এসব কথা বলেন তিনি। উপাচার্য তার বক্তব্যে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উন্নয়নে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

কর্মসূচিতে বিএসএমএমইউ উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আয়শা খাতুন, অধ্যাপক ডা. আসাদুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আতিয়ার রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ সাইফুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিবছর বিশ্বে ১০ কোটি সাত লাখ কোটি ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। বিশ্বের প্রায় ৬২টি দেশে শতকরা ১০০ ভাগ স্বেচ্ছায় রক্ত সংগ্রহ হয়। উন্নতবিশ্বে প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে ৩৬ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন যা উন্নয়নশীল দেশে তিনজনেরও কম। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় পাঁচ লাখ নারী প্রসবজনিত কারণে মারা যায়। দেড় লাখ মারা যায় কেবল রক্তের অভাবে। দুর্ঘটনাজনিত কারণে পাঁচ থেকে ২৯ বছরের মানুষ বেশি মারা যায়, যেখানে রক্তের প্রয়োজন অবধারিত। কোনো দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র দুই শতাংশ মানুষ যদি বছরে মাত্র একবার রক্তদান করে, তাহলে দেশের রক্তের অভাব থাকে না।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচি শুরু হয়। এর আওতায় সারাদেশে ২০৮টি রক্তপরিসঞ্চালন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এসব কেন্দ্রে রক্তদাতাদের এইডস, হেপাটাইটিস-বি ও সি, সিফিলিস এবং ম্যালেরিয়ার পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ৬৬টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ব্লাড ব্যাংকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইসেন্স সংগ্রহ করে রক্তপরিসঞ্চালন ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ছয় লাখের বেশি ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়।

বর্তমানে সংগৃহীত রক্তের প্রায় ৬৯ ভাগ সংগ্রহ করা হয় আত্মীয়-স্বজন থেকে এবং ৩১ ভাগ পাওয়া যায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতা থেকে। স্বেচ্ছা রক্তদাতা সংখ্যা গত দশ বছরে শতকরা ১০ ভাগ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে শতকরা ৩১ ভাগে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু মুমূর্ষু রোগীর জন্য অনেক সময় রক্ত দেয়ার কোনো আত্মীয়-স্বজন থাকে না। এ জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে যাতে করে ২০২০ সালের মধ্যে ১০০ ভাগ স্বেচ্ছায় রক্তদান নিশ্চিত করা যায়।

এমইউ/বিএ/এমকেএইচ