EN
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

প্যারিসে অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে পুলিশের হানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২০

প্যারিসে একটি অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে রাতের অন্ধকারে হানা দিয়েছে ফরাসি নিরাপত্তা বাহিনী। এসময় অসহায় শরণার্থীদের অস্থায়ী তাঁবু তুলে দেয় পুলিশ। টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় বের করে দেয়া হয় তাদের। পরে বাস্তুচ্যুত শরণার্থী ও সমাজকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কিছুক্ষণ সংঘর্ষও হয়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন এক টুইটবার্তায় এ ঘটনার বেশকিছু দৃশ্য বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেন এবং পুলিশকে এ ব্যাপারে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন।

আশ্রয় হারানো শরণার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের জোরপূর্বক রাস্তায় থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

jagonews24

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ফরাসি পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী জেন্ডারমারির সদস্যরা সোমবার রাতে মধ্য প্যারিসের প্লেস ডে লা রিপাবলিকা চত্বরে একটি অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে হানা দেয়। এসময় অনেক শরণার্থীকে জোরপূর্বক রাস্তায় বের করে দেয়া হয়।

পরে তাদের সঙ্গে বেশকিছু স্বেচ্ছাসেবক ও সমাজকর্মী যোগ দিয়ে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ জানান। এসময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানেগ্যাস এবং বিশেষ ধরনের গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ওপরও তারা ইচ্ছা করে চড়াও হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

দাতব্য সংস্থা ইউটোপিয়া ৫৬ জানিয়েছে, প্যারিসের ওই অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে অন্তত ৪৫০ শরণার্থী ছিল। কিছুদিন আগেই তাদের আগের বসবাসস্থল ভেঙে দেয়ার প্রতিবাদে তারা ওই চত্বরে সমবেত হয়েছিলেন।

ফরাসি আইনজীবী, সংসদ সদস্য ও সিটি কাউন্সিলরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। যদিও এতে তারা খুব একটা সফল হননি।

jagonews24

শাহাবুদ্দিন নামে ৩৪ বয়সী এক আফগান শরণার্থী এএফপিকে বলেন, ‘তারা (পুলিশ) খুব হিংস্র ছিল। আমরা শুধু মাথার ওপর একটা ছাদ চাই।’

প্যারিস সিটি হলের আবাসন বিষয়ক প্রতিনিধি ইয়ান ব্রোসার্ট একটি সামাজিক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

সিরীয় গৃহযুদ্ধসহ বিভিন্ন সহিংসতার কারণে ২০১৫ সাল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আসতে শুরু করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। সম্প্রতি এ সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে এখনও অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে গৃহহীন ও বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি

কেএএ/এমকেএইচ