EN
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চীনা হ্যাকারদের হানা, মুখে তালা ভারত সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:৫৪ পিএম, ০১ মার্চ ২০২১

শুধু সেনা পাঠিয়ে সীমান্তেই নয়, হ্যাকার দিয়ে ভারতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও এলোমেলো করে দিয়েছিল চীন। তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পেট্রো শোধনাগার, এমনকি পরমাণু শক্তি কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে চীনা হ্যাকাররা। ভয়ঙ্কর ভাইরাস ঢুকিয়ে এলোমেলো করতে চেয়েছে ব্যবস্থাগুলো। সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘রেকর্ডেড ফিউচার’।

গত বছরে লাদাখে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলাকালেই আচমকা অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই। এর পেছনে চীন সরকারের মদতপুষ্ট হ্যাকারদের হাত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংস্থাটির প্রতিবেদনে।

জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থমকে যায় গোটা মুম্বাই। শহরের দুই কোটি বাসিন্দা তো বটেই, সেখানকার পরিবহন ব্যবস্থা, শিল্প এবং শেয়ারবাজারেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে এর। থমকে যায় ট্রেনগুলো। কল-কারখানায় বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন। কোভিড রোগীদের ভেন্টিলেটর চালু রাখতে জরুরি ভিত্তিতে চালু করতে হয় জেনারেটর। এসবের জেরে ব্যাপক ধস নামে শেয়ারবাজারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেন ভারতীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। অন্ধকার থেকে মুক্তিও আসে দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে। তবে ওইটুকু সময়েই ভারতের ক্ষতি হয় অন্তত আড়াইশ’ কোটি রুপি।

jagonews24

ঘটনার পরপরই জানা গিয়েছিল, কালওয়াতে সেন্ট্রাল লাইনে গ্রিড বসে যাওয়ায় ওই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। এ নিয়ে তদন্তের পর সাইবার হামলার বিষয়টিও সামনে আসে। তবে পরে তা নিয়ে আর কোনও তথ্য জানানো হয়নি। একপ্রকার মুখে কুলুপ আঁটে মোদি সরকার।

‘রেকর্ডেড ফিউচার’-এর দাবি, সীমান্ত সংঘর্ষ শুরুর পর ভারতকে হাতে নয়, ‘ভাতে’ মারার সিদ্ধান্ত নেয় চীন। সীমান্তে সংঘাত চলার মধ্যেই ভারতের প্রায় সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে ঝাঁকে ঝাঁকে ভাইরাস (ম্যালওয়্যার) ঢুকাতে থাকে চীনা হ্যাকাররা। ওই সময় ভারতের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিস্টেমেও ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এগুলোর মধ্যে সক্রিয় (অ্যাক্টিভেট) করা হয়েছিল হাতেগোনা কয়েকটি। একারণেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল শুধু মুম্বাইতে। একসঙ্গে সবগুলো সক্রিয় করলে গোটা ভারতই অন্ধকারে ডুবে যেত বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

ভারতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে চীনা হ্যাকাররা কী ধরনের ‘কোড’ ব্যবহার করেছিল তা জানাতে পারেনি ‘রেকর্ডেড ফিউচার’। তবে তারা বিষয়টি দিল্লিকে জানিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভারত সরকার এ বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি বা বিবৃতিও দেয়নি।

তবে নিউইয়র্ক টাইমস-এ এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মহারাষ্ট্র সরকার স্বীকার করেছে, গত অক্টোবরে মুম্বাইয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পেছনে সাইবার হামলার যোগসূত্র রয়েছে। সোমবার রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী নিতিন রাউয়াত স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি সত্য। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি দল কাজ করছে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

কেএএ/এএসএম