EN
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

হাইড্রোলিক হর্নে শব্দ দূষণ বন্ধের বিষয়ে জানতে চান হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:১৯ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২১

শব্দ দূষণের জন্য দায়ী হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে নির্দেশনা বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি, রাজধানীর আবাসিক ও ভিআইপি এলাকায় রাতের বেলায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ৮ মার্চ পরবর্তী আদেশ এবং শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

শব্দ দূষণে দায়ী হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের বিষয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন জমা দিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে বলা হয়েছে।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক আবেদনে শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তিনি জানান, শব্দ দূষণে দায়ী হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে তা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে জনস্বার্থে রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ নির্দেশনা দেন। তখন রাজধানীর আবাসিক ও ভিআইপি এলাকায় রাত ১০টার পর সব ধরনের হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করে আদেশ দেয়া হয়।

পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ও হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া, রাজধানীর কাকরাইল থেকে মগবাজার হয়ে ময়মনসিংহের দিকে যাওয়ার রাস্তা এবং শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি হয়ে গাবতলী সড়কে শব্দ নিয়ন্ত্রণে সার্ভিলেন্স টিম গঠন করে তদারকির নির্দেশ দেয়া হয়।

নির্দেশনায় দেশের ভেতরে ছোট ছোট কারখানায় উৎপাদিত হাইড্রোলিক হর্ন উৎপাদন ও সস্তায় বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট এ আদেশ দিলেন।

মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগরে গাড়ির মালিক ও চালকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে থাকা হাইড্রোলিক হর্ন ১৫ দিনের মধ্যে নিকটস্থ থানায় জমা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। জমা হওয়া সব হর্ন ধ্বংস করতে নির্দেশ দেয়া হয় পুলিশকে। যা কার্যকরের জন্য বলা হয় ডিএমপি কমিশনার ও ট্রাফিক পুলিশকে।

এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৫ নভেম্বর সারাদেশে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। একইসঙ্গে, রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, অফিসার্স ক্লাব ও বারিধারা এলাকাসহ সারাদেশে আইনে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ হচ্ছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য একটি নজরদারি টিম গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি এসব এলাকায় শব্দদূষণ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার (হাইওয়ে), ট্রাফিক পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ও বিআরটিএর চেয়ারম্যানের প্রতি এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

ওই বছরের ২৩ আগস্ট এক আদেশে শব্দ দূষণ রোধে ঢাকা মহানগরে গাড়ির হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ২০১৭ সালের ২৭ আগস্টের পর রাজধানীর রাস্তায় গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো হলে সেই গাড়ি জব্দ করারও নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে, বাজার থেকে সব হাইড্রোলিক হর্ন সাতদিনের মধ্যে জব্দ করতে এবং আমদানি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় শব্দ দূষণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু পরবর্তীতে আবার তা বেড়ে যায়। তাই এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এফএইচ/এসএস/জিকেএস