দূরত্বের কালো মেঘ

সাহিত্য ডেস্ক প্রকাশিত: ০৫:৪০ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
দূরত্বের কালো মেঘ

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ

হঠাৎ করে সব কিছুই আমি হারিয়েছি। হারিয়েছি এই গোধূলির বিষণ্ন ছায়া। আর তোমার দূরত্বের অবহেলায় হারিয়েছি আমার গল্পের মূল সুর।

তবে এখন রোজই অপেক্ষার ঝড় তুলি তোমার চুলের বেনিতে, তোমার হাতের ছোঁয়ায়। ফিরে পাই তোমার হাসির নিস্তব্ধতা দাঁত বাকা চাহনিতে। টুকটাক ধমকের সুর- এটা না ওটা হবে। এসব প্রতিনিয়ত মাথায় নাড়া দেয়। মন খারাপের দিনে হুটহাট বেরিয়ে পড়া। কখনো ধানমন্ডি কখনো বা নারায়ণগঞ্জ। আবার কখনো বুড়িগঙ্গার ওপার! আবার টিএসসিতে টিটু মামার কাছ থাকে হরলিক্স হাত পেতে চেটে চেটে খাওয়া। বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুরান ঢাকা আসা। প্রতিদিনের গল্পগুলো এখন আর হয় না, দিনশেষে বেলা এখন দূরত্বের ছোঁয়ায়।

তবে কোনো মানুষ দেখেনি আমায় এই সন্ধ্যার অন্ধকারে তোমার প্রতীক্ষায় দিন গুনতে। তবে অনেকেই জানে তোমার অপেক্ষায় এখনো বসে আছি চায়না হলের সামনে।

কেউ দেখেনি, যখন রাত্রির নীলিমা টুপটাপ করে পড়েছিল মাটির বুকে জলপট্টির মুছে যাওয়ার নিস্তব্ধ সুর, তখন ছিলাম আমি ক্যামেরা গলির ধারে শূন্য পায়ে বৃষ্টির জলে। কেউ দেখেনি তখন হৃদয়ের বৃষ্টিধারাগুলো ঝরছে অবুঝ মনে দিনের পর দিন। আর তুমি সব বুঝে দূরত্বের ফাকে আমায় রেখে চলে গেলে ওই শহরে।

আমি তো দেখেছি, দেখেছি জানালা দিয়ে রাতের গভীরতার কান্নার জল, দূরান্তের পাহাড়ের চূড়ায় মৃত্যুছাপ! আর আমার নিস্তব্ধতার দূরত্বের পিছুটানের ভয়ানক মৃতকল্পে।

প্রতিনিয়ত আমার বুকের ডানপাশে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে সূর্যের অগ্নিকণা। নিবানোর জন্য পাইনি দমকলবাহিনীর একটু খানি জল। না হয় তোমার এক চিলতে হাসির ভালোবাসা ফুঁ। এই জলে কি আর মনের দহন নেবে? উত্তর সে কি দেবে? তার ইচ্ছে নেই। কেনই বা দেবে আমার সহজ-সরল উত্তর? উত্তরে উত্তরে খুঁজবে আমায় কোন একদিন। তবে দেখা পাবে ওপারে সেদিন!

আমি কত দুঃখ আর ব্যথার ভারে অবনত আমার হৃদয়কে তোমার জন্য উন্মুখ করে রেখেছি। তুমি কি একটুও জানো না?
জানলেই বা তুমি তোমার মতো থাকবে, আমি আমারই কল্পকথার গল্প সাজাবো! তাই নয় কি?

তুমি চাইলে নতুন পথ সাজাতে পারতে। ইচ্ছার ঘুড়ির নাটাই দুজনই চালতাম নিস্তব্ধতার সুরে! তুমি একাই ঘুড়ির নাটাই নিয়ে থাকো। ইচ্ছে হলে আমায় একটুখানি ডাকো তবে।

আচ্ছা মেয়ে, তোমার সাথে কিছু কথা ছিল। উত্তর নাই বা দিলে, তবে শোন! কেনই বা তুমি আশা দিলে? কেনই বা বলেছিলে, থাকবে পাশে? কেন বা দুঃস্বপ্নগুলো গোপন রেখেছিলে? কেনই বা বারবার সাবধান করতে? কেনই বা ভালোবাসতে শেখালে? কেনই বা নতুন পথে পা বাড়াতে শেখালে? কেনই বা হাত ধরে সমগ্র সত্তা ত্বরিতে ছুটে এসেছিল আমার কাছে?

আর যখন আমি বিষাদে মগ্ন; তখন তুমি আছো অনেক অনেক দূরে। কেনই বা দূরে জানতে খুবই ইচ্ছা হয়। কী বা দোষ ছিল আমার? ভালোবেসেছিলাম এটাই কি দোষ ছিল আমার? না অন্য কোথাও?

গোধূলির বিষণ্ন ছায়ায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে আমার সেই অবজ্ঞার পাঠমালা। মনের গহীনে এক ফালি রোদ নেই। ঠান্ডায় জমে আছে কষ্টের নোনা জল। আর আমার চোখ থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে নেমে গিয়েছিল কিছু নোনাভূমির বটবৃক্ষের ঝরা পাতা। সেই পাতাগুলো শুকনা বড্ড মরমর ধ্বনিতে মগজের বিপরীতে ঢেউ খেলে দু’এক ফোটা মঙ্গার চারাভূমি জমিতে।

তুমি বারবার এসেছো, এসেছো সায়াহ্নের অন্ধকার ঠেলে ঠেলে। যেখানে গোধূলি তার বিষণ্ন ছায়ায় নিমগ্ন করেছে মৃন্ময়ী প্রতিমার অবয়ব হয়ে। তবে এখন কেন তুমি আসো না আর কুঞ্জি হয়ে? হঠাৎ নিদারুণ বিষণ্ন বাতাস এখনো চিরাচরিতভাবে আমায় টানে। কখনো কখনো স্বপ্নোত্থিত ঝঞ্ঝা এসে আঘাত করে আমায়। আমার ব্যথিত কণ্ঠস্বরের মাঝে অন্য কণ্ঠস্বর তোমায় শোনাতে।

তুমি তো এখন ব্যস্ততায় টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার পথে ধাবিত করো। অন্য জগৎ দেখাও তারে! আমার জগতে নেই তুমি এখন, ভাবাও তারে!

ইচ্ছে হয়, তোমায় বলে দেই- ওপারে যাওয়ার গল্পের মূল চরিত্রবতী ছিলে তুমি। তোমার জন্যই সন্ধ্যার আলোয় নদীর ঢেউ নতুন করে দেখা। নতুন ব্রীজ উদ্ভাবনে বসে ঢেউ-ছন্দমালা রটা। সন্ধ্যায় নদীর মাঝে ডিজে লাইটের উদ্ভব করা। জোসনার আলোয় ঢেউগুলোর নতুন ভাগ করে নেওয়া। নতুন স্বপ্নবৃত্তান্ত রচনা করার প্রয়াস পাওয়া। আর রোজই চাঁদপুরে যাওয়ার মিথ্যা গল্পের আশ্বাস। আর চুপচাপ থেকে লঞ্চের এক কোণে বসে ভাবা জীবনোচ্ছ্বাসের নতুন গল্প।

তোমার গানে ‘রংপুরে যাইয়া দেখি রঙের মেলা’ আজ বড্ড বেশি মুখে চলে। আর ‘চলছে গাড়ি সিসিমপুরে’ ইকরির ছক্কা মারা, সিনচানের মজার কাহিনি না বললে আর দেখা হতো না। তবে এখন স্মৃতিচারণ আমার সম্বল। তুমি আমায় ওইখানেই আটকে দিলে। কোন পথে যাবো তার নির্দেশনা না দিয়েই হুট করে না বলে চলে গেলে। এই ছিল তোমার কমন সেন্স? বলতে তুমি, কমন সেন্স নাকি সব কিছুর মূল। তবে বুঝতে পারলাম, আমার কমন সেন্সের অভাব ছিল।

যতই দূরত্বে যাও না কেন। তোমার পছন্দমতো খসখসে হাতের আঙুলে আমি অবিরাম গেঁথে যাবো শিউলির মালা। আর না হয় ধনেপাতার এক বিশাল বাগান সাজাবো। পুকুপুকুর মধ্যদিয়ে ইতি টানবো জীবনের শেষবেলার ইচ্ছাটুকু। যদি শেষ সময়ের সঙ্গী হয়ে পাশে থাকো। একটু হাত বাড়িয়ে দিও, আমি প্রতীক্ষায় থাকবো। কখনো সে হাত ফসকে যাবে না। একটি বার সুযোগ দিয়ে বাধিত করবে। দায়িত্বটা তোমার আশায় রইল। দূরত্বের হেম-নলিনী।

এসইউ/জেআইএম

সর্বশেষ - সাহিত্য

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়