সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশৃঙ্খলার দায় নেবে কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশৃঙ্খলার দায় নেবে কে?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশৃঙ্খলার দায় নিতে চাচ্ছে না কেউ। কিন্তু দায়টা নেবে কে? এ প্রশ্ন করেছেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এশিয়ার সর্বোচ্চ মাথাপিছু ফেসবুক ব্যবহারকারী দেশ বাংলাদেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই ফেসবুক ব্যবহারকারী। প্রতিবছর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ফেসবুক, গুগল নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। তাছাড়া দৈনিক ১ হাজার এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে এ খাতে। যার মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। অথচ বিশাল এ বিনিয়োগ জনস্বার্থ কিংবা রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কোনো ভূমিকা তো রাখছেই না উল্টো প্রতিনিয়তই দেশের মধ্যে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। যার ফলে ব্যক্তি-পরিবার কিংবা রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গতকাল ভোলায় ফেসবুকের অপব্যবহার করার কারণে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এই যোগাযোগ মাধ্যমের বিশৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ। এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে ফেসবুকের যেমন উদ্যোগ নেই। তেমনি রাষ্ট্রীয়ভাবেও খুব একটা উদ্যোগ আজ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, গত ১৬ অক্টোবর ৫জি'র একটি সেমিনারে মন্ত্রী মহোদয়কে প্রযুক্তি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জনসচেতনতা গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এরপর গত ১৯ তারিখে মন্ত্রীর কাছে আমরা দু’টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলাম। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি নিরাপদ প্রযুক্তি জাতিকে উপহার দেয়া। দ্বিতীয়টি টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধে দেশব্যাপী জনসচেতনতা গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তার উত্তরে মন্ত্রী জানান, জনসচেতনতা গড়া বা এ নিয়ে সভা সেমিনার করা মন্ত্রণালয়ের কাজ না। তাহলে আমাদের প্রশ্ন ভোলায় ঘটে যাওয়া ঘটনার দায় নেবেটা কে? টেলিযোগাযোগ খাতের জন্মদাতা দেশ স্কটল্যান্ডে এখনো কোনো ডিভাইস বা সিম ক্রয় করার সময় গ্রাহককে একটি অঙ্গীকারনামা দিতে হয়ে যে সে কি কাজে এটি ব্যবহার করবে। ওষুধের কাজ রোগ নিরাময় করা। তারপরও কেন ওষুধের গায়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লেখা থাকে। আজ পর্যন্ত ফেসবুকের একটি অফিস বা কর্মকর্তা নিয়োগ এ দেশে কেন নিশ্চিত করা গেল না?

সরকারের কাছে আমাদের দাবি ফেক আইডিসমূহ দ্রুত সরিয়ে ফেলে প্রকৃত মতামত প্রদানকারীদের এবং সঠিক এনআইডি দ্বারা বা ফেসবুক ভেরিফায়েড করার সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আমাদের পড়তে হতে পারে।

এএস/এসএইচএস/জেআইএম

সর্বশেষ - জাতীয়

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়