যেভাবে আলোচনায় আসেন এসপি হারুন

জাগো নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ০৯:৪৬ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৯
যেভাবে আলোচনায় আসেন এসপি হারুন

২০১১ সালের ৬ জুলাই, ঢাকায় হরতাল চলছিল। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় তখনকার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে ফারুককে পিটিয়ে আলোচনায় আসেন এসপি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

এরপর তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সামনে আসতে থাকে, যা এখনও বিদ্যমান। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় তিনি গাজীপুরের এসপি ছিলেন। তখন তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানায় বিএনপি। ওই নির্বাচনের সময় কিছুদিনের জন্য তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে আবার তাকে সেখানেই দায়িত্ব দেয়া হয়।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সময়ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠে এসপি হারুনের বিরুদ্ধে। সে-সময় নির্বাচন কমিশন থেকে তখন তাকে পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার না করার জন্যও বলা হয়।

এই বহুল আলোচিত এসপি হারুনকে সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরের টিআর পদে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) থেকে গত বছরের ২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের এসপি হিসেবে তাকে বদলি করা হয়েছিল। বছরপূর্তির এক মাস আগে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হলো। রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলি করা হয়।

হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাঁদার জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জের একাধিক শিল্পপতিকে তুলে নিয়ে সাজানো মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ভয় দেখিয়েছেন।

হারুনের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ করেন পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেমের ছেলে ও আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ (রাসেল)। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে না পেয়ে তার স্ত্রী-সন্তানকে তুলে নিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। পরে তারা মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাসেল তার স্ত্রী-পুত্রকে একটি পার্টিতে নামিয়ে ঢাকা ক্লাবে আসেন। ক্লাব থেকে বেরিয়ে দেখেন তার গাড়িটি নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন গাড়ি আছে নারায়ণগঞ্জে। পরদিন রাতে তার অনুপস্থিতিতে হারুন একদল পুলিশ নিয়ে তার গুলশানের বাসায় ঢুকে ভাঙচুর করেন। এরপর তার স্ত্রী-সন্তানকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যান। এ বিষয়ে নিকটস্থ গুলশান থানাকে কিছু জানায়নি নারায়ণগঞ্জের পুলিশ। পরদিন তার খোয়া যাওয়া গাড়িতে ইয়াবা, মদ ও গুলি উদ্ধারের ঘটনা সাজিয়ে তার ও তার গাড়িচালকের নামে মামলা করেন। গুলশানের বাসা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও রাসেল তার ফেসবুকে শেয়ার করেন।

তবে গত শনিবার নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভিন্ন একটি গল্প শোনান হারুন। তিনি দাবি করেন, শওকত আজিজের গাড়ি থেকে ২৮টি গুলি, ১ হাজার ২০০ ইয়াবা বড়ি, ২৪ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, ৪৮ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সময় গাড়িতে শওকতের স্ত্রী ফারাহ রাসেল ও সন্তান আনাব আজিজ ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এম এ হাসেম সহযোগিতা করবেন বলে মুচলেকা দেয়ায় তার স্ত্রী-পুত্রকে ছেড়ে দেয়া হয়।

জেডএ/পিআর

সর্বশেষ - জাতীয়

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়