দুর্নীতির টাকা দিয়ে ফুটানি চলবে না : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা প্রকাশিত: ০৩:২০ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
দুর্নীতির টাকা দিয়ে ফুটানি চলবে না : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশে কোনো দুর্নীতি সন্ত্রাস চাঁদাবাজি চলবে না। দুর্নীতির টাকা দিয়ে ফুটানি-ফাটানি চলবে না।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নীতি হচ্ছে কেউ যেন পিছনে না পড়ে থাকে। সবাই সুন্দরভাবে জীবন যাপন যেন করতে পারে। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে উচ্চ ডিগ্রি নেয়া পর্যন্ত আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। যাতে অসচ্ছলরাও এগিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া গ্রামের বিধবা, অসচ্ছল, স্বামী পরিত্যক্তাদের ভাতা, বয়স্কদের ভাতাসহ নানা সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তরুণ-যুবকরা যাতে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে সেজন্য যুব উন্নয়ন ট্রেনিংসহ নানা সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ৩০ ধরনের ওষুধ দিয়ে সেবা করছি।

তিনি বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। এখন নজর দিয়েছি পুষ্টিকর খাবারের দিকে। নারী-পুরুষ সমানভাবে যেন তাদের অধিকার এবং সুবিধা পায় সে ব্যবস্থা করেছি। যে যতভাবে বাধা সৃষ্টি করুক না কেন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাওয়ার গতি অব্যাহত থাকবে। মুজিব আদর্শে যারা বিশ্বাসী দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব তাদের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের যে মর্যাদা দিয়েছেন তা ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দেশের অনেক উন্নয়ন করতে পেরেছি। আজ দেশ হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। গ্রামীণ মানুষের উন্নয়নে আমার বাড়ি আমার খামার কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। তারা যেন নিজেরা পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে সে পরিকল্পনা নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবাদানের মূলমন্ত্র নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করেছিলেন। পরে দলের সঙ্গে মিলিয়ে নাম পরিবর্তন করে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ করেছি। এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন নেতৃত্বে আসবে তারা যেন সেবাদান ও সুশৃঙ্খলভাবে জীবন যাপন করে। তাদের দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটি সুশৃঙ্খল জীবন গড়তে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি তারাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার পর তারা দেশে খুনের রাজত্ব কায়েম করেছে। খুন-ধর্ষণ ছিল তখন নিত্যদিনের ঘটনা। পরে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। রাজাকার-আলবদরদের মন্ত্রী বানিয়ে এ দেশের পতাকার অসম্মান করেছে। ১৯ বার ক্যু হয়েছে। হাজার হাজার আর্মি অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের যারা মন্ত্রী বানিয়েছে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছে সেই বিএনপি এবং রাজাকাররা আর যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য দেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। কারণ তারা ক্ষমতায় এলে আবার জঙ্গিবাদ, খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন শুরু হবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি নির্মল গুহের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও কৃষিবিদ আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

সম্মেলনে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হক সাচ্ছু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মতিউর রহমান মতি, সম্মেলনে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের দফতর সম্পাদক সালেহ মো. টুটুল। মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এর আগে সম্মেলনের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

এফএইচএস/এএইচ/এমকেএইচ

সর্বশেষ - জাতীয়

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়