EN
  1. Home/
  2. জাতীয়

করোনা চিকিৎসা : মঙ্গলবার চালু হচ্ছে ‘চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল’

আবু আজাদ | প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২০

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিদিনই প্রাণ কাড়ছে মানুষের। দিন দিন অবনতি হচ্ছে চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতিও। এর মাঝেই এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সু-সংবাদ শোনালেন চট্টগ্রামের সন্তান ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া। তার উদ্যোগ ও নাভানা গ্রুপের সহায়তায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) চালু হচ্ছে ‘চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল’।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে চট্টগ্রামবাসীকে এ সু-সংবাদ দেয়ার কথা জাগো নিউজকে জানান হাসপাতালের উদ্যোক্তা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া।

jagonews24

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীর জন্য সু-সংবাদ হলো, স্বল্প সময়ে হলেও রাতদিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করে আমরা করোনা চিকিৎসায় আমাদের ফিল্ড হাসপাতালের প্রস্তুতি শেষ করেছি। আজ দুপুরে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির ও নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম হাসপাতালের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। ইতোমধ্যে হাসপাতালের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সেটআপ ও প্রশাসনিক আরও কিছু কাজ আগামীকালের মধ্যে শেষ করে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) চালু হচ্ছে ‘চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল’। সেদিন থেকে আমরা রোগী ভর্তি নেব।’

জানা গেছে, হাসপাতালটির অবস্থান হবে চট্টগ্রামের বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের অদূরে সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুর নামক স্থানে।

কারা দেবেন চিকিৎসা

চট্টগ্রামের কয়েকজন তরুণ চিকিৎসক নিজেদের উদ্যোগেই এই হাসপাতাল পরিচালনা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদের সহায়তা করবেন একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী।

ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে আমরা ইতোমধ্যে ১০ সদস্যের চিকিৎসক টিম গঠন করেছি। এছাড়া পাঁচজন নার্স ও তিনজন চিকিৎসা সহকারী আমাদের সহায়তা করবেন। এর বাইরে আনুষঙ্গিক কাজে সহায়তা করতে তৈরি আছে ১০০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘এসব চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকরা করোনা রোগীদের স্বেচ্ছায় চিকিৎসাসেবা দেবেন। যেহেতু এ যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে নিজের জীবনের ওপর আসতে পারে চরম ঝুঁকি, তাই কোনো ক্ষতি হলে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবার এবং আমি বাধ্য থাকব। এক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কাউকে দায়ী করা যাবে না- এমন অঙ্গীকার দিয়েই তারা সেবা দিতে আসছেন।’

কতজন পাবেন চিকিৎসা

করোনা চিকিৎসায় চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় নাভানা গ্রুপের পক্ষ থেকে ভূমি ও ভবনসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে সহযোগিতা করছে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ এবং সাধারণ মানুষের সহায়তা নিয়েই ফিল্ড হাসপাতালের প্রস্তুতি চলছে।

jagonews24

ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপাতত আমরা ৩৭টি বেড স্থাপন করছি। এছাড়াও থাকছে ৫টি ভেন্টিলেটর। একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি মাইক্রোবাস আছে রোগী ও চিকিৎসক পরিবহনে। ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। ইতোমধ্যেই আমরা চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছি। আপাতত আমরা রোগীদের আইসিইউ সুবিধা দিতে পারব না। তবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জন মহোদয়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। প্রয়োজনে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ সুবিধা নিতে পারবেন রোগীরা।’

উদ্যোগের পেছনের কথা জানাতে গিয়ে নাভানা গ্রুপের ব্যবস্থাপক আরফাদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘২৯ মার্চ বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রামে হাসপাতাল করার প্রস্তাব দেন নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি আপনারা পারেন তাহলে দেখেন। এরপর আমরা ডা. বিদ্যুৎ দাদার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে ফিল্ড হাসপাতাল চালুর জন্য কাজ করছেন।’

পাবলিক হেলথ ফ্যাকাল্টি হিসেবে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করা ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া উদ্যোগের শুরুর সময়কার ভাবনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকায় যখন আকিজ ও বসুন্ধরা ফিল্ড হাসপাতাল করার ঘোষণা দিল, তখন অনুভব করলাম আমার চট্টগ্রামেও এমন কিছু হওয়া প্রয়োজন। কারণ করোনা এক বা দুদিনের বিষয় নয়। তাই সাধারণ হাসপাতালগুলোতে এর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। যদি এসব হাসপাতালে করোনা রোগীকে সেবা দেয়া হয় তবে সাধারণ রোগীরা সেবা বঞ্চিত হবেন।’

jagonews24

‘সেই চিন্তা থেকেই চট্টগ্রামে বিভিন্নজনের সঙ্গে আলাপ শুরু করলাম। পরে ফেসবুকে দেয়া আমার একটি স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে নাভানা গ্রুপ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমি বিত্তবানের কাছে যাইনি। ইতোমধ্যেই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়েছেন লক্ষাধিক ব্যবহারকারী। একশ টাকা করে দিলে এক লাখ সাধারণ মানুষে এক কোটি টাকা হয়, খুব অসম্ভব কি? সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগের প্রাণশক্তি। তারাই সাহস জুগিয়েছে সবচেয়ে বেশি। এগিয়ে এসেছে মানুষ, নানা রকমের চিকিৎসা উপকরণ পাঠাচ্ছে সহযোগিতা হিসেবে’- বলেন ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া।

আবু আজাদ/বিএ/এমকেএইচ