অলির দলে ভাঙন অনিবার্য?

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৪:১৩ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
অলির দলে ভাঙন অনিবার্য?

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপিতে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। দলটির নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণার পর এ পরিস্থিতি যেন আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ৯ জুন ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট এলডিপির নতুন কমিটি ঘোষিত হয়। এতে সভাপতি-মহাসচিব পদে যথাক্রমে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ ও ড. রোদোয়ান আহমেদ বহাল থাকলেও বাদ পড়েন দলটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদৎ হোসেন সেলিম। নতুন কমিটিতে সেলিমের ‘সম্মানজনক’ পদ না থাকায় তার অনুসারীরা ভীষণ রকম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে সেলিম তার অনুসারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ বৈঠকে তারা দুটি বিষয় প্রাধান্য দেবেন। এক, গত ৯ তারিখে ঘোষিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পাল্টা নির্বাহী কমিটি গঠন এবং দুই, সেলিমের নেতৃত্বে এলডিপির একটি অংশ বিএনপিতে যোগদান। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সূত্র আরও জানায়, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার আগ থেকেই শাহাদৎ হোসেন সেলিমের সঙ্গে অলির দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ গঠন নিয়ে অলি-সেলিমের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। যার পরিণাম হিসেবে সেলিমকে নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিত রাখা হয়।

নতুন কমিটি থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও অগঠনতান্ত্রিকভাবে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে মহাসচিব রোদোয়ান সাহেবসহ অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শনিবার বিকেলে নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা বৈঠক করব। বৈঠকের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা গণমাধ্যমে জানানো হবে।’

এদিকে শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এলডিপি মহাসচিব ড. রোদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘এলডিপি থেকে বাদ পড়ার পর কে কোন দল করবে, এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে এলডিপি চিন্তিত নয়। এলডিপির প্রেসিডেন্ট মহাসচিবসহ প্রেসিডিয়াম সদস্যরা মিটিং করেই নিষ্ক্রিয়দের কমিটিতে না রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অযোগ্য, নিষ্ক্রিয়রা এলডিপি থেকে বাদ পড়বে, এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।’

ওই বিবৃতিতে এলডিপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘এলডিপি থেকে সাবেক তিনজন সংসদ সদস্য মনোনয়ন না পেয়ে হতাশা থেকে দলত্যাগ করেন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় সবাইকে নমিনেশন দেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ এরা দীর্ঘ ১২ বছরেও তাদের এলাকায় কোনো ওয়ার্ড এমনকি ইউনিয়ন কমিটিও করতে পারেনি।’

রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘আমার প্রসঙ্গে কিছু সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে যে, সুযোগ পেলে আমি বিএনপিতে যোগ দেব। যা মনগড়া বক্তব্য। এর কোনো ভিত্তি নেই।’

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল অলি আহমেদ ও বিএনপির অপর ২৪ মন্ত্রী-এমপি একত্রিত হয়ে দলটি গঠন করেন। তবে ২০০৭ সালে আদর্শগত কারণে বিকল্প ধারা এলডিপি থেকে বের হয়ে যায়।

২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এলডিপি মহাজোটের সঙ্গে অবস্থান করে। কিন্তু ২০০৮ এর নির্বাচনের আগে এলডিপি মহাজোট থেকে বের হয়ে আসে এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে ১৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র একটি আসনে জয়লাভ করে। দলের সভাপতি অলি চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জয়লাভ করেন। ২০১২ সালে এলডিপি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটে প্রবেশ করে।

কেএইচ/এমএআর/এমকেএইচ

সর্বশেষ - রাজনীতি

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়