EN
  1. Home/
  2. রাজনীতি

ইভিএমের কারণে ভোট দিতে যায়নি জনগণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে বিতর্ক এমন জায়গায় এসেছে যে, জনগণ ভোটও দিতে যায়নি।

শনিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে অভিযোগ দেয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন অভিযোগ দেয় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তার মতো একজন ব্যক্তি যখন কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান তখন নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর কিছুই করার থাকে না।’

‘প্রধানমন্ত্রী একজন মেয়র প্রার্থীকে পাশে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য বলেছেন, এটি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এটি রাজনৈতিকভাবে খুবই খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কারণ দেশের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে নির্বাচনকে যদি এভাবে প্রভাবিত করা হয় তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে না। প্রধানমন্ত্রী যখন কোনো প্রার্থীকে পাশে নিয়ে ভোট চান তখন তো নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা কাজ করছেন তারাও তো এ মেসেজ পান।’

ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন যে, আমরা ইভিএম নিয়ে অনেক কথা বলেছি। ইভিএম নিয়ে বিতর্ক এমন জায়গায় এসেছে যে, জনগণ ভোটও দিতে যাচ্ছে না। কারণ পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা সৃষ্টির জন্য ইভিএমের অনেক বড় ভূমিকা। সেটা আজ প্রমাণিতও।

তিনি বলেন, ইভিএম যে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে তা আজও প্রমাণিত। চট্টগ্রামে যে উপনির্বাচন হয়েছে সেখানেও প্রমাণিত হয়েছে। চট্টগ্রামটা ছিল পাইলট প্রজেক্ট আর আজ এটাকে পুরোপুরি ফাইনাল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আঙুলের ছাপ নেয়ার পর ভোটকেন্দ্র থেকে অনেককে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হয়তো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা টিপ দিচ্ছে, না হয় দলের অন্য কেউ নিজেদের প্রতীকে ভোট দিয়ে দিচ্ছে। ধর্ষণ করবে এ ভয় দেখিয়ে ১২ নারী এজেন্টকে বের করে দিয়েছে। পারতপক্ষে এজেন্ট তো ঢুকতেই পারেনি। যারা ঢুকেছে তাদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। আর সাংবাদিকরা যারা গিয়েছেন তাদের কীভাবে অসম্মান করা হয়েছে, কীভাবে তাদের অপদস্ত করা হয়েছে, ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিকের মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে, মারধর করেছে। এমনকি অনেক জায়গায় সাংবাদিকদের একসেস দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন খসরু।

‘কদিন ধরে শুনে আসছি, যারা ঢাকার ভোটার নন, তারা ঢাকায় থাকতে পারবেন না। কিন্তু যারা এসেছেন তাদের বলা হয়েছে বের হওয়ার জন্য। যদি বের না হন তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে শত শত বহিরাগত।’

খসরু আরও বলেন, অনেক ইভিএম মেশিনে ধানের শীষের প্রতীক পাওয়া যায়নি। অনেক ইভিএম আবার নষ্ট। যেখানে ইভিএম কাজ করেছে সেখানে ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর যেখানে ইভিএম কাজ করেনি সেখানে বেশি। দুই প্রার্থী গতকাল থেকে শত শত অভিযোগ করেছেন, কোনো অভিযোগের প্রতিকার হয়নি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পরপরই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ভোটারদের মনে তারা আস্থা সৃষ্টি করতে পারেনি। এজন্য ভোটকেন্দ্রে ভোটার কম।

এইচএস/এমএআর/এমকেএইচ