ভিডিও EN
  1. Home/
  2. রাজনীতি

গণসমাবেশ ঠেকাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে সরকার: মোশাররফ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০২২

বিএনপির গণসমাবেশ ঠেকাতে সরকার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেছেন, সরকার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলেও জনগণ বার্তা দিয়েছে, তারা এ সরকারকে চায় না। জনগণ গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করতে প্রস্তুত। আমরা এখন চাল-ডাল-তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন করছি। কিন্তু আগামী আন্দোলন হবে সরকারের পতনের আন্দোলন।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে ‘শহীদ ডা. মিলন-গণতন্ত্রের মুক্তি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ডা. মিলন শহীদ হয়েছেন কেন? তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। সেসময় খালেদা জিয়ার আহ্বানে সারাদেশে আন্দোলন ছিল তুঙ্গে। ওই সময় এরশাদের পেটুয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন মিলন। তার শাহাদাতের মধ্য দিয়েই আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ নেয়। মিলনসহ আরও ছাত্র ও শ্রমিক নেতার জীবন দেওয়ার পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল।

‘খালেদা জিয়ার আপোসহীন মনোভাব ছিল এর নেপথ্য কারণ। এরপর দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তিনি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে সংযোজন করেছিলেন। মানুষ খুশিমতো ভোট দিতে পেরেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েছিল। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগও ক্ষমতায় এসেছিল। এরপর শুরু হলো চক্রান্ত।’

তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়া বিদেশে যাননি। তাকে অনেক চাপ দেওয়া হয়েছিল। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ওয়ান ইলেভেনের সরকারকে বৈধতা দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন ওয়ান ইলেভেনের সরকার নাকি তাদের আন্দোলনের ফসল। তারপর তারা ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আজ দেশে গণতন্ত্র নেই। বিএনপির ছয়শর বেশি লোক গুম। এক হাজারের বেশি মানুষ খুন। খালেদা জিয়াকে বিনা কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। এটা জনবিচ্ছিন্ন সরকার। জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা নেই। টাকা লুটে আর পাচার করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানির দাম বেড়েছে। দারিদ্রতা বেড়েছে। ৪০ ভাগ লোক দারিদ্র্য সীমার নিচে। সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনো সংকটের সমাধান হবে না। যারা অর্থনীতি ধ্বংস করেছে তারা এর পুনর্গঠন করতে পারবে না। দেশে বিচার ব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণে।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডা. মো. আবদুস সালামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডা. মেহেদী হাসান ও ডা. মো. ফখরুজ্জামান ফখরুলের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ড্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. শাহিদুর রহমান, সহ-সভাপতি ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক প্রমুখ।

কেএইচ/আরএডি/এএসএম