EN
  1. Home/
  2. প্রবাস

‘আমার মেয়েরা বেঁচে আছে কিনা কিছুই জানি না’

প্রবাস ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ০২ মার্চ ২০২১

চীনাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে কয়েক হাজার উইঘুর পালিয়ে এসেছেন তুরস্কে। সেখানেও ভালো নেই তারা। তাদের অনেকে তুলে ধরেছেন জীবনের অমানবিক দুঃখ কষ্টের কথা।

সম্প্রতি চীন থেকে তুরস্কে পালিয়ে আসা প্রায় ৫০ হাজার উইঘুরদের একজন আবদুস স্যুক্যুর। ইস্তাম্বুলের জেটিনবার্নু এলাকায় তার বাস, যেখানে চীন থেকে পালিয়ে যাওয়া বেশিরভাগ উইঘুর অভিবাসীরা থাকেন।

একটি সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল ফোনের দোকানে কাজ করে আবদুস স্যুক্যুর কোনো রকম দিনাতিপাত করছেন। ৩২ বছর বয়সী আবদুস স্যুক্যুর ছলছল চোখে জানান, আমার পরিবারের সঙ্গে পাঁচ বছর আগেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এক বছর পর আমি নিজের বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি।

চীন সরকার উইঘুর ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার নিপীড়ন করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে জানিয়েছে ক্যাম্পে আটকে রেখে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে, বিনা নোটিসে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হচ্ছে শিশুসহ অন্যদের।

উইঘুরেরা তুর্কিভাষী সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, যার বেশিরভাগই মুসলমান। সংস্কৃতির দিক থেকে তুর্কিদের সঙ্গে অনেকটা মিল থাকার কারণেই চীন থেকে তুরস্কে পালিয়ে গেছেন তারা।

আবদুস স্যুক্যুর বলেন, তুরস্কে আসার পর তার মায়ের সঙ্গে মাত্র একবার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। কত মানুষ যে শিবিরে আটক তার কোনও দাফতরিক হিসেব নেই। তিনি নিয়মিত চীনের উইঘুরদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলগুলিতে যোগ দেন এবং সচেতনতা বাড়াতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন।

সমাবেশে অংশ নেয়ার জন্য তাকে তুরস্ক কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার গ্রেফতারও করেছে। তুরস্কে পালিয়ে যাওয়া আরেক অভিবাসী ওমর ফারুক। ৩১ বছর বয়সী ফারুকের তুর্কি নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও কঠিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তুরস্কে আসার সময় স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের দুইজনকে চীনে রেখে আসতে হয়েছে।

পরে স্ত্রী তুরস্কে এলেও কন্যারা এখনো চীনেই রয়ে গেছে। কন্যাদের তুরস্কে আসতে সাহায্যে করায় ফারুকের স্ত্রীর ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। শাশুড়িকে আটকে রাখা হয়েছে ক্যাম্পে।

ফারুক বলেন, ‘আমার মেয়েরা এখন কোথায় আছে, কেমন আছে বা বেঁচে আছে কিনা কিছুই জানি না। জীবনে আর কখনো দেখা হবে কিনা সেটাও অনিশ্চিত।’ সূত্র: ডয়চে ভেলে।

এমআরএম/এমএস