আমন সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয়

মাসুদ রানা প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০
আমন সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয়

>> মজুতের উদ্দেশ্য সংকটকালে বাজার নিয়ন্ত্রণ
>> যদিও ধান সংগ্রহের হার লক্ষ্যমাত্রার ২৭ শতাংশ
>> লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন সত্ত্বেও ধান সংগ্রহের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে না
>> সিদ্ধ ও আতপ চালও কেনা হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম

চলতি মৌসুমে সরকারি আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সংগ্রহের বেশির ভাগ সময় চলে গেলেও সামান্য পরিমাণই ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্য অধিদফতর।

এ অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশয় প্রকাশ করে খাদ্য অধিদফতর থেকে মাঠ প্রশাসন ও মাঠ পর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের আমন সংগ্রহ জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

খাদ্যের মজুত গড়ে তুলতে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সরকারের সংগ্রহের বড় একটি অংশ আমন থেকে করতে চাচ্ছে সরকার। সংকটকালে বাজার নিয়ন্ত্রণে এই মজুত সরকারের অন্যতম হাতিয়ার। একই সঙ্গে কৃষককে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও এই সংগ্রহের অন্যতম উদ্দেশ্য। এবারই প্রথম আমনের মৌসুমে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ৬ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার। একই সঙ্গে ৩৬ টাকা দরে সাড়ে ৩ লাখ টন চাল ও ৩৫ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনা হবে। পরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আরও কিছুটা বাড়ানো হয়।

গত ২০ নভেম্বর থেকে ধান ও ২ ডিসেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ধান-চাল সংগ্রহ চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবার আমনে ‘কৃষকের অ্যাপ’ এর মাধ্যমে দেশের ৮ বিভাগের ১৬ উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে লটারির মাধ্যমে। কিন্তু তারপরও কৃষক নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিতর্ক উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, যারা জীবনে কোনো দিন ধান চাষ করেননি তাদের নাম লটারিতে উঠছে। তাদের টিকিট কিনে নিচ্ছে কিছু দালাল। সেই দালালরাই খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহের দায়িত্ব পাচ্ছে। তাই সময় মতো ধান পাচ্ছে না সরকার।

গত ২০ জানুয়ারি ‘অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ ২০১৯-২০ এর আওতায় প্রকৃত কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ জোরদারকরণ’ বিষয়ে সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ।

চিঠিতে বলা হয়, চলতি অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ ২০১৯-২০ এর আওতায় উৎপাদক কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে উপজেলা পর্যায়ে ওয়েবসাইটে কৃষক তালিকা প্রকাশ, তালিকাভুক্ত কৃষকের তালিকা উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির কাছে হস্তান্তর করা এবং হস্তান্তরিত তালিকা থেকে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করে নির্বাচিত কৃষকদের থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেয়া হয়।

‘এ নির্দেশনার আলোকে ইতোমধ্যে সারাদেশে শতভাগ লটারি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ধান সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৯১ টন। কিন্তু এর বিপরীতে মাত্র এক লাখ ৬৬ হাজার ৬২৮ টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। ধান সংগ্রহের হার ২৭ শতাংশ।’

নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন শতভাগ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও ধান সংগ্রহের কাঙ্ক্ষিত গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে না উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ধান সংগ্রহ এ গতিতে চললে সংগ্রহের নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দুরূহ হয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যে সব জেলায় উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকরা এখনও সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করেননি ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়, ২৭ জানুয়ারির মধ্যে লটারিতে নির্বাচিত কৃষকরা সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহে ব্যর্থ হলে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্য থেকে পুনরায় লটারির মাধ্যমে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আগ্রহী কৃষক নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।

আগে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধান সংগ্রহের সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনুরোধও করা হয়েছে চিঠিতে।

খাদ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে ৩ লাখ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সোয়া লাখ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। ৫০ হাজার টন আতপ চালের মধ্যে কেনা হয়েছে মাত্র ৪ হাজার টন।

খাদ্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক (সংগ্রহ) সাইফুল কাবির জাগো নিউজকে বলেন, শীত, বৃষ্টিসহ নানা কারণে সংগ্রহ অনেক কম হয়েছে। তবে শেষ দিকে সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

আরএমএম/এসএইচএস/এমএস

সর্বশেষ - বিশেষ প্রতিবেদন

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়